আজিজ তো আবার মৌলবি মানুষ! জ্বিন আর মানুষের তফাৎ বুঝতে পারলে তো হয়েই গেল! নিজেই জ্বিন তাড়ানোর ব্যবস্থা করে ফেলবে, আর যদি আমার ছেলের ‘জ্বিন হুজুর্ִ মামা ‘এসে হাজির হন তাহলে তো দোউখানু ঘড়া বন্দী হবে! নাহ ওনাকে এই সাত দিনের মধ্যে আসতে দেওয়া চলবে না।দাওয়াতের লিস্ট থেকে উনি বাদ । তাই বা কি করে হয়! দাওয়াত তো ওনাকে দিতেই হবে। কি জানি এর মধ্যেই উনি জেনে গেলেন কিনা… । আজিজকে না হয় সামাল দিয়ে ফেলবো … কিন্তু ‘জ্বিন হুজুর মামা?!
এই মূহুর্তে মতিবিবিকে আমার আর সহ্য
হচ্ছে না ।সমস্যাগুলো মাথায় কিলবিল করছে।
-‘মতিবিবি,তুমি দেখ গিয়ে তোমার নতুন এ্যাসিস্টান্ট কি করছে।’
-‘কিন্তু মিডাম,আমি একটা কড়াই খুঁজে পাচ্ছি না…’
-‘ওটা কাল রাতে রিনি নিয়ে গিয়েছে,বলেছে কড়াইয়ের বাচ্ছা সহ ফেরত দেবে।এখন যাও তো!’
-‘আর দিয়েছে…’
-‘মতিবিবি,তুমি দেখ গিয়ে তোমার নতুন এ্যাসিস্টান্ট কি করছে।’
-‘কিন্তু মিডাম,আমি একটা কড়াই খুঁজে পাচ্ছি না…’
-‘ওটা কাল রাতে রিনি নিয়ে গিয়েছে,বলেছে কড়াইয়ের বাচ্ছা সহ ফেরত দেবে।এখন যাও তো!’
-‘আর দিয়েছে…’
হঠাৎ
রান্নাঘরের দিক থেকে ‘ধপাশ’
একটা আওয়াজ হল আর দোউখানু নিমেশে আমার
সামনে হাজির।
-‘উনি তো অচেতন হয়ে পড়ে আছেন…’
-‘কে অচেতন হয়েছে?’
-‘ওই মতিবিবি …’
-‘কেন? ‘
-‘মনে হয় আমি সব কাজ করে ফেলেছি তাই…’
-‘কি কি করেছো তুমি? ‘
-‘ষোল পদের ব্যাঞ্জণ, আর দুই পদের অন্ন। আমাকে মাফ করে দিন ‘সন্দেশ মিডাম ‘। আমি ওনাকে বেহুশ করিনি, ওনার হাঁসি দেখলে আমারই বেহুশ হতে ইচ্ছে করে। তাই তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে সরে পড়তে চেয়েছিলাম…’
‘মিডাম বল তাহলেই চলবে।’
-‘পানি ঢেলে এসেছি, একটু পরেই হুশ ফিরে আসবে ওনার।’
-‘ঠিক আছে, রান্নাঘরে থেকে খাবার নিয়ে চিলেকোঠায় চলে যাও। দুই ঘন্টা পরে আমার সাথে দেখা কর।দাওয়াতের বাজারের ফর্দ তৈরী করতে হবে।
নাহ,পরিকল্পনা করে কোন লাভ নেই,আমার ফৌজি স্বামীর মত তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে…
দোউখানুকে দুই ঘন্টা পর ঘরের দরজায় উঁকি ঝুঁকি দিতে দেখলাম। নির্দেশ অনুযায়ী চলে এসেছে। বেশ হাসি খুশী দেখাচ্ছে দোউখানুকে। ভিতরে ডাকলাম ওকে।
-‘বেশ হাসি খুশী দেখাচ্ছে তোমাকে দোউখানু?’
-‘উনি তো অচেতন হয়ে পড়ে আছেন…’
-‘কে অচেতন হয়েছে?’
-‘ওই মতিবিবি …’
-‘কেন? ‘
-‘মনে হয় আমি সব কাজ করে ফেলেছি তাই…’
-‘কি কি করেছো তুমি? ‘
-‘ষোল পদের ব্যাঞ্জণ, আর দুই পদের অন্ন। আমাকে মাফ করে দিন ‘সন্দেশ মিডাম ‘। আমি ওনাকে বেহুশ করিনি, ওনার হাঁসি দেখলে আমারই বেহুশ হতে ইচ্ছে করে। তাই তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে সরে পড়তে চেয়েছিলাম…’
‘মিডাম বল তাহলেই চলবে।’
-‘পানি ঢেলে এসেছি, একটু পরেই হুশ ফিরে আসবে ওনার।’
-‘ঠিক আছে, রান্নাঘরে থেকে খাবার নিয়ে চিলেকোঠায় চলে যাও। দুই ঘন্টা পরে আমার সাথে দেখা কর।দাওয়াতের বাজারের ফর্দ তৈরী করতে হবে।
নাহ,পরিকল্পনা করে কোন লাভ নেই,আমার ফৌজি স্বামীর মত তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে…
দোউখানুকে দুই ঘন্টা পর ঘরের দরজায় উঁকি ঝুঁকি দিতে দেখলাম। নির্দেশ অনুযায়ী চলে এসেছে। বেশ হাসি খুশী দেখাচ্ছে দোউখানুকে। ভিতরে ডাকলাম ওকে।
-‘বেশ হাসি খুশী দেখাচ্ছে তোমাকে দোউখানু?’
-‘জি
মিডাম আম্মা,সবার সাথে পরিচয় হল। আপনার দোকানে যারা
সেলাইয়ের কাজ করে ওদের সবার সাথে । রহিমা বলেছে কোনো সমস্যা হলে সে দেখিয়ে দেবে।
-‘হু,শুধু মেয়েদের সাথেই দেখা হয়েছে তাই না?’
‘জি মিডাম আম্মু।’
-‘বিপদ কাটে নাই দোউখানু, আরও দু’জন বাকি আছে এখনও। না,ভুল বললাম, অনেকেই বাকি আছে… । তৈরী থেকো।’
-‘জি মিডাম আম্মা।’
-‘আম্মা শব্দটা যোগ না করলেই কি নয়?’
-জি আম্মা, আর হবে না।’
-‘এখন বল, দাওয়াতের জন্য কি কি রান্না করবে? মনে রেখ, পর পর দুইটা দাওয়াত।’
-নও রতন পোলাউ, কমলা পোলাউ, গরুর শাহী রেজালা, পাসিন্দা কাবাব,পাকা রুইয়ের কালিয়া , কই মাছের গঙ্গা যমুনা, ঝলসানো খাসীর রান, ফুলকপির আচার, মটরশুটি দিয়ে বাঁধাকপির ডালনা,পৃথিবীর সব রকম আঙুর জাতীয় ফল দিয়ে ফলের সালাদ, সব রকমের বাদাম দিয়ে ঘন ক্ষীর। ওহ! মুড়ো ঘন্টও হবে! আমার ‘হতে পারত শাশুড়ী আম্মা সন্দেশজাদী’ খুব ভালো বানাতেন ওটা। আমি দেখে দেখে শিখে নিয়েছিলাম। আরও আছে, খাটি জাফরান আর বাদাম দিয়ে শরবত।’
অক্ষি বলয়্গুলোতে চোখে দুটোকে আর ধরে রাখতে পারছি না, ওরা বোধ হয় এবার টুপ টুপ করে ঝরে পড়বে! দুর্বল হার্টের দ্রুত লয় শুনতে শুনতে অনিচ্ছা সত্যেও রাজী হলাম।
-‘কিন্তু মিডাম, চালগুলো একদম খাঁটি বাসমতি হতে হবে, শুধু ঘাস খেয়েছে এরকম গরু আর খাসী হতে হবে, গরুর দুধ ও ঘী ‘শুধু ঘাস খায়’ এরকম গরুর হতে হবে। আনাজগুলো সব গোবর সার দেওয়া জমির হতে হবে। আজকে রান্না করতে গিয়ে দেখলাম, কোনো কিছুই খাঁটি নয়। আর মশলা নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত। ওগুলো আমি জোগাড় করব। আপনি বাকি সব কিছু এনে দিন।’
তাড়াতাড়ি চোখের ঠিক নিচে হাত দুটো পেতে ধরলাম , চোখগুলো বেরিয়ে পড়লে যাতে সময় মত ধরে ফেলতে পারি।
-‘হু,শুধু মেয়েদের সাথেই দেখা হয়েছে তাই না?’
‘জি মিডাম আম্মু।’
-‘বিপদ কাটে নাই দোউখানু, আরও দু’জন বাকি আছে এখনও। না,ভুল বললাম, অনেকেই বাকি আছে… । তৈরী থেকো।’
-‘জি মিডাম আম্মা।’
-‘আম্মা শব্দটা যোগ না করলেই কি নয়?’
-জি আম্মা, আর হবে না।’
-‘এখন বল, দাওয়াতের জন্য কি কি রান্না করবে? মনে রেখ, পর পর দুইটা দাওয়াত।’
-নও রতন পোলাউ, কমলা পোলাউ, গরুর শাহী রেজালা, পাসিন্দা কাবাব,পাকা রুইয়ের কালিয়া , কই মাছের গঙ্গা যমুনা, ঝলসানো খাসীর রান, ফুলকপির আচার, মটরশুটি দিয়ে বাঁধাকপির ডালনা,পৃথিবীর সব রকম আঙুর জাতীয় ফল দিয়ে ফলের সালাদ, সব রকমের বাদাম দিয়ে ঘন ক্ষীর। ওহ! মুড়ো ঘন্টও হবে! আমার ‘হতে পারত শাশুড়ী আম্মা সন্দেশজাদী’ খুব ভালো বানাতেন ওটা। আমি দেখে দেখে শিখে নিয়েছিলাম। আরও আছে, খাটি জাফরান আর বাদাম দিয়ে শরবত।’
অক্ষি বলয়্গুলোতে চোখে দুটোকে আর ধরে রাখতে পারছি না, ওরা বোধ হয় এবার টুপ টুপ করে ঝরে পড়বে! দুর্বল হার্টের দ্রুত লয় শুনতে শুনতে অনিচ্ছা সত্যেও রাজী হলাম।
-‘কিন্তু মিডাম, চালগুলো একদম খাঁটি বাসমতি হতে হবে, শুধু ঘাস খেয়েছে এরকম গরু আর খাসী হতে হবে, গরুর দুধ ও ঘী ‘শুধু ঘাস খায়’ এরকম গরুর হতে হবে। আনাজগুলো সব গোবর সার দেওয়া জমির হতে হবে। আজকে রান্না করতে গিয়ে দেখলাম, কোনো কিছুই খাঁটি নয়। আর মশলা নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত। ওগুলো আমি জোগাড় করব। আপনি বাকি সব কিছু এনে দিন।’
তাড়াতাড়ি চোখের ঠিক নিচে হাত দুটো পেতে ধরলাম , চোখগুলো বেরিয়ে পড়লে যাতে সময় মত ধরে ফেলতে পারি।
হাউ
মাউ কান্না, আর দুড় দাড় দৌড়ের
শব্দে চমকে উঠলাম। মতিবিবি আড়ি পেতেছিল, মরা কান্না কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে চলে গেল।
-‘উনি বোধ হয় আবার অচেতন হলেন!’
দোউখানুর দিকে অগ্নি দৃষ্টি হানলাম!
-‘কিন্তু এসব আমি জোগাড় করব কি করে দোউখানু! এসব তো এখন আর পাওয়া যায় না, আর পেলেও অনেক টাকার প্রয়োজন!’
-‘আমি কোহেকাফের সাথে কথা বলেছি, ওখানকার বাবুর্চি সম্প্রদায় বলেছে, সব জোগাড় করে দেবে। টাকা দিলে সব পাওয়া যাবে, যদিও কোহেকাফে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন রয়েছে । আপনি টাকায় দাম শোধ করবেন, আর ওরা এখান থেকে সেই পরিমান স্বর্ণ কিনে কোহেকাফের ব্যাবসায়ীদের দেবে । ফল, বাদাম, মশলা আমি জোগাড় করব, গোটা পৃথিবী একবার চক্কর দিলেই হবে, তবে, কমলা আর মধু কিনতে হবে অস্ট্রেলিয়া থেকে, যদিও তুর্কীদের দেশের মধু সব চাইতে ভালো । জাফরান না হয় ইরান থেকেই নিয়ে আসব।আর আঙুর জাতীয় ফল রাশিয়ার বনে জঙ্গলে পাওয়া যাবে ।ওই কমলা, মধু আর জাফরানটাই কিনতে হবে!’
-‘নও রতনের বাদামগুলো?’
‘ও নিয়ে ভাববেন না, কোহেকাফের ওরা জোগাড় করে দেবে ।’
‘কত টাকা লাগবে?’
-‘উনি বোধ হয় আবার অচেতন হলেন!’
দোউখানুর দিকে অগ্নি দৃষ্টি হানলাম!
-‘কিন্তু এসব আমি জোগাড় করব কি করে দোউখানু! এসব তো এখন আর পাওয়া যায় না, আর পেলেও অনেক টাকার প্রয়োজন!’
-‘আমি কোহেকাফের সাথে কথা বলেছি, ওখানকার বাবুর্চি সম্প্রদায় বলেছে, সব জোগাড় করে দেবে। টাকা দিলে সব পাওয়া যাবে, যদিও কোহেকাফে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন রয়েছে । আপনি টাকায় দাম শোধ করবেন, আর ওরা এখান থেকে সেই পরিমান স্বর্ণ কিনে কোহেকাফের ব্যাবসায়ীদের দেবে । ফল, বাদাম, মশলা আমি জোগাড় করব, গোটা পৃথিবী একবার চক্কর দিলেই হবে, তবে, কমলা আর মধু কিনতে হবে অস্ট্রেলিয়া থেকে, যদিও তুর্কীদের দেশের মধু সব চাইতে ভালো । জাফরান না হয় ইরান থেকেই নিয়ে আসব।আর আঙুর জাতীয় ফল রাশিয়ার বনে জঙ্গলে পাওয়া যাবে ।ওই কমলা, মধু আর জাফরানটাই কিনতে হবে!’
-‘নও রতনের বাদামগুলো?’
‘ও নিয়ে ভাববেন না, কোহেকাফের ওরা জোগাড় করে দেবে ।’
‘কত টাকা লাগবে?’
-‘মিডাম
আম্মু, আমি তো এখনকার টাকার
হিসেব বুঝি না, ওরা বলেছে সাত লক্ষ
লাগবে।’
-‘কিন্তু, তুমি যে সেদিন আমার সাথে বেতন নিয়ে দামদস্তুর করলে?’
-‘ওহ, আপনি বললেন সাত হাজার, আর আমি তাই বললাম দশ হাজার, বেতন সব সময় বাড়িয়ে চাইতে হয়.… । তবে টাকা দিয়ে আমি কি করব… আপনি আমার মাতৃতুল্য…’
ভেবেছিলাম, দুই লক্ষে কাজ হয়ে যাবে, কিন্তু আরও পাঁচ লক্ষ লাগবে… পানি খেতে ইচ্ছে হল!
কিন্তু উপায় নেই… নিজের ফাঁদে নিজেই পা দিয়েছি!
-‘কিন্তু মা মনি,রান্নার সময় মতিবিবির থাকা চলবে না। প্রথমত ওনার চুল বড়ই দৃষ্টিকাড়া, আর উনি আমার কাজের ধরণ দেখলে আবারও অচেতন হয়ে পড়বেন । ‘
-‘মা মনি?? এটা আবার কখন শিখলে?’
-‘কিন্তু, তুমি যে সেদিন আমার সাথে বেতন নিয়ে দামদস্তুর করলে?’
-‘ওহ, আপনি বললেন সাত হাজার, আর আমি তাই বললাম দশ হাজার, বেতন সব সময় বাড়িয়ে চাইতে হয়.… । তবে টাকা দিয়ে আমি কি করব… আপনি আমার মাতৃতুল্য…’
ভেবেছিলাম, দুই লক্ষে কাজ হয়ে যাবে, কিন্তু আরও পাঁচ লক্ষ লাগবে… পানি খেতে ইচ্ছে হল!
কিন্তু উপায় নেই… নিজের ফাঁদে নিজেই পা দিয়েছি!
-‘কিন্তু মা মনি,রান্নার সময় মতিবিবির থাকা চলবে না। প্রথমত ওনার চুল বড়ই দৃষ্টিকাড়া, আর উনি আমার কাজের ধরণ দেখলে আবারও অচেতন হয়ে পড়বেন । ‘
-‘মা মনি?? এটা আবার কখন শিখলে?’
-‘ওই
যে রহিমার সাথে বসে একটু টেলিভিশন দেখেছিলাম।’
নাহ! এরা আমার ব্যাবসা লাটে তুলবে!
যাই হোক, এখন এসব ভাবার সময় নেই, অনেক বড় বড় ঝড় সামাল দেওয়া বাকি আছে…
-‘আপনি চিন্তা করবেন না মামনি মিডাম, ওনার সেলাইয়ের কাজ আমি করে দিয়েছি…’
মতি সমস্যা ভুলে, রহিমা সমস্যা সমাধান জরুরী হয়ে পড়েছে!
-‘দোউখানু, তুমি কি জান, রহিমার স্বামী অতিমাত্রায় সন্দেহবাতিক? একটু সাবধানে থেক। তুমি নিঃশ্চয় চাও না রহিমা বকা খাক?
কিন্তু, মতিবিবিকে কিভাবে রান্নার সময় সরিয়ে রাখবে? এটা একেবারেই অসম্ভব। তুমি তার এসিস্ট্যান্ট।’
-‘স্সন্দেশ আম্মু, আপনি অনুমতি দিলে ওনার কোমরের ব্যাথা একটু বাড়িয়ে দিতে পারি।
দু’জোড়া চোখ একটু হলেও ঝিকিয়ে উঠল, বললাম, ‘দেখ,পানিটা অল্পই ফেল, আর লক্ষ্য রেখ যেন বেশি বাথ্যা না পায়। পরের দাওয়াতের সময় অন্য ব্যবস্থা করা যাবে। এখন জোগাড় যন্ত্রে লেগে যাও।’
দোউখানু জানালো যে ও কাল সকালে বিশ্ব ভ্রমণে বের হবে আর আমি ৫ লক্ষের চিন্তায় বাতিব্যাস্ত হলাম। পাঁচ লক্ষ জোগাড়ের চিন্তায় খাতা কলম নিয়ে হিসেবে বসেছি।
নাহ! এরা আমার ব্যাবসা লাটে তুলবে!
যাই হোক, এখন এসব ভাবার সময় নেই, অনেক বড় বড় ঝড় সামাল দেওয়া বাকি আছে…
-‘আপনি চিন্তা করবেন না মামনি মিডাম, ওনার সেলাইয়ের কাজ আমি করে দিয়েছি…’
মতি সমস্যা ভুলে, রহিমা সমস্যা সমাধান জরুরী হয়ে পড়েছে!
-‘দোউখানু, তুমি কি জান, রহিমার স্বামী অতিমাত্রায় সন্দেহবাতিক? একটু সাবধানে থেক। তুমি নিঃশ্চয় চাও না রহিমা বকা খাক?
কিন্তু, মতিবিবিকে কিভাবে রান্নার সময় সরিয়ে রাখবে? এটা একেবারেই অসম্ভব। তুমি তার এসিস্ট্যান্ট।’
-‘স্সন্দেশ আম্মু, আপনি অনুমতি দিলে ওনার কোমরের ব্যাথা একটু বাড়িয়ে দিতে পারি।
দু’জোড়া চোখ একটু হলেও ঝিকিয়ে উঠল, বললাম, ‘দেখ,পানিটা অল্পই ফেল, আর লক্ষ্য রেখ যেন বেশি বাথ্যা না পায়। পরের দাওয়াতের সময় অন্য ব্যবস্থা করা যাবে। এখন জোগাড় যন্ত্রে লেগে যাও।’
দোউখানু জানালো যে ও কাল সকালে বিশ্ব ভ্রমণে বের হবে আর আমি ৫ লক্ষের চিন্তায় বাতিব্যাস্ত হলাম। পাঁচ লক্ষ জোগাড়ের চিন্তায় খাতা কলম নিয়ে হিসেবে বসেছি।
No comments:
Post a Comment