Search This Blog

Saturday, July 13, 2019

ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ২ )

ঘড়া একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ২ ) 
 নিচে নেমেই দোউখানু অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে।খুব ভোরে দোউখানুকে সব বুঝিয়ে দেব, তবে কাজটা করতে হবে রাঁধুনী মেয়ে এলোকেশী মতিবিবি আসার আগেই।
ছেলের আম্মুবলে ডাক শুনে দৌড়ে ওর কাছে গেলাম ।ভেবেছিলাম ও বোধহয় দোউখানুকে দেখে ফেলেছে। না, এই মাঝ রাতেও ও কাজ করছে। ফিরতি পথে আবারওআম্মু’…
-‘
তুমি কি আমাকে ডাকলে…’
-‘
না
-‘
ও সন্দেশ আম্মু।দোউখানুর উপস্থিতি অনুভব করে রাগে পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে আমার!
-‘
দোউখানু, তোমাকে কে বলল যে আমার নাম সন্দেশ, আর আমাকে আম্মুবলে ডাকছো কেন?’
-‘
আমি তো আপনার নাম জানি না, আপনি সন্দেশজাদীর মত দেখতে বলে সন্দেশ আম্মুবলেছি।
-‘
কিন্তু আম্মু কেন?’
-আমি ভেবেছি এখনকার মানুষেরা আম্মাকেআম্মুবলে । কিন্তু আমি যে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না, কোথায় বসব একটু বলে দেবেন?’ রান্নাঘরে এক কোণে একটা টুলের উপর দোউখানুকে বসতে বলে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালাম, এত বড় একটা ঘটনা,অথচ আমি কাউকে বলতে পারছি না ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুমাতে গেলাম।
ঘুমাতে পারছি না।ভয়,কখন আবার মতিবিবি চলে আসে!
ঘন্টা খানেক পর উদ্বেগ সামলাতে না পেরে আমি রান্নাঘরে উপস্থিত। কিচ্ছুক্ষণের জন্য আমি স্থবির হয়ে গিয়েছিলাম; আমার রান্নাঘরটা যেন বিদেশী হোম ইন্টেরিওর ম্যাগাজিনের কিচেন সেক্শনের ফ্রন্ট পেজ , একটু দূরে দোউখানু রুপালি রঙের একটা কড়াই হাতে চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
-‘
আমি বুঝতে পারিনি যে কালো রঙটাই এই সব বাসনের বিশেষত্বদোউখানুর সলজ্জ স্বীকারোক্তি।
-‘
ঠিক আছে। সবগুলোই কি..…!’
-
না,না,শুধু এটাই
-‘
বাসনটা আমাকে দিয়ে দাও। মতিবিবি আসার আগেই লুকিয়ে ফেলতে হবে। ঠিক আটটার দিকে সদর দরজার কলিং বেলে চাপ দিয়ে দরজা খোলার অপেক্ষায় থাকবে, আমি দরজা খুলে দেব, তারপর তুমি কাজে জয়েন করবে।
মাথা নাড়ালো দোউখানু।
-‘
আর একটা প্রশ্ন সন্দেশ আম্মা,মতিবিবিকে কি মতি আম্মুবলে ডাকব?’
-
ডেকে দেখতে পার, কিন্তু তারপরের পরিণতি সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারি না আর আমাকে সন্দেশ আম্মা বলে ডাকবে না সবার সামনে।নিজে থেকেই জেনে নিতে হবে কি বলে ডাকতে হবে।হাতে এখনও তিন ঘন্টার মত সময় আছে, আগামী পরিকল্পনাগুলো মনে মনে গুছিয়ে নেবার জন্য নিজের ঘরে ফিরে গেলাম।সকাল আটটার মধ্যে সবার প্রশ্নের উত্তর তৈরী করে রাখতে হবে । সময় মত পাকড়াশের আগমন এবং রীতিমত দাম দস্তুর করে ওকে চাকুরীতে বহাল করলাম । মতিবিবিকে ডিপার্টমেন্টাল হেড বানিয়ে পাকড়াশকে এ্যাসিস্টান্ট বানালাম, যদিও পাকড়াশ এতে একটু মনক্ষুণ্ণ হল। মতিবিবিকে খুশী রাখতেই এই কাজটা করতে হল। সহকর্মী করলেই ভালো হত কিন্তু তাহলে মতিবিবির মুখের ধার সামলানো বেশ কষ্টকর হয়ে যেত । বাড়ী সদস্যদের প্রশ্নবোধক দৃষ্টি দেখেও না.দেখার ভান করে আমার ঘরে গিয়ে ঢুকলাম, আসলে পালিয়ে এলাম ।পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছি মাত্র, দোরগোড়ায় ছল ছল চোখের মতিবিবিকে দেখে, পরিকল্পনার আশায় জলাঞ্জলি দিয়ে প্রশ্ন উত্তর পর্বের জন্য তৈরী হতে হল।
-‘
মিডাম,আমার কোমরের ব্যাথা শুনে এক রাতের মইধ্যে এত কাজ কইরে ফেইললেন! বইয়ের ছবির মত লাইগছে! মানুষের জইন্য আপনার অনেক মহব্বত!
আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলাম আমি। চোখ প্রায় জলে ভরে উঠেছে। অন্তত শশুরবাড়ীর দেশের লোক তো আমাকে ভালো বলেছে! মহব্বতশব্দটা আমার কানে ঘুরে ফিরে রিনিঝিনি সুরে বেজে চলেছে। ফোঁপাতে ফোঁপাতে মতিবিবি আবারও বলল, ‘বৃদ্ধ বয়সে এত কাজ করা ঠিক নয় মিডাম। এমনিতেই আপনার হার্ট দুর্বল তার উপর এত কাজ কইরে যদি এপার ওপার কিছু হয়ে যেত!এই প্রথম জানলাম যে আমি হার্টের রোগী।
দোউখানুর সন্দেশ আম্মুসম্মোধনটা মিঠে লাগছে এখন! আংগুলে বিপি মেশিনটা লাগিয়ে ফেলেছি। মনে মনে বললাম ,’তাহলে তো তোমার পোয়া বারো হত!
-‘মতিবিবি, তুমি আমার থেকে কত ছোট?’
-‘
ঠিক কইরে বইলতে পারব না, তবে বছর বিশেকের ছোট তো হবই দুই এক বছর বেশিও হতে পারে । আপনি শারের (স্যার) কথাটা একটুকুও ভাবলেন না! বুড়ো মানুষটাকে কে দেখা শোনা করতো তখন!বলা বাহুল্য, মতিবিবির বয়স পঞ্চাশের কোঠা পেরিয়েছে। আমার শাশুড়ীর আমলের লোক, বয়সের আন্দাজ খুব সহজেই করা যায়। তবে মতিবিবি এককালে রূপবতী ছিল এ কথা ঠিক। ওই রূপের বেশ কিছু অংশ এখনও অবশিষ্ঠ আছে।
অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করে বললাম, ‘আমার এপার ওপার কিছু হয়ে গেলে তুমি না হয় দেখা শোনা করবে।
মনে মনে ভাবছি,’মতিবিবি, বুড়ো মানুষটার ফৌজি হাতের একটা চড় খেলে কমপক্ষে একপাটি দাঁত তোমার খুলে পড়ে যাবে, এমনিতেই তোমার উপরের পাটির সামনের দুটো দাঁত নেই; আর তুমি যতই রূপবতী হও না কেন হাঁসলে তোমাকে ঠিক শাকচুন্নির মত মনে হয়। দোউখানুও তোমাকে হাঁসতে দেখলে নিঃসন্দেহে ভয় পাবে।
-‘
না মিডাম, তা কি করে হয়।মানুষে মন্দ কথা বলবে, আমি যদি আপনার মত বুড়ো হতাম তাহলে না হয় একটা কথা ছিল! ও কাজ না হয় ফজলু করবে, আমি এদিকটা সামাল দেব।
আমার মৃত্যুর পর সংসারটা ভালো ভাবেই চলবে ভেবে আমি বেশ নিশ্চিন্ত বোধ করলাম কিন্তু রহিমা, ফজলু আর আজিজ-এদেরকে কি ভাবে সামাল দেব!
চলবে ……………

No comments:

Post a Comment

শ্মশানের ভূত

  দ্বিতীয় পর্ব     জ্ঞান ফিরল পরদিন সকাল নটায়। ততক্ষণে ঠাকুরমশাই বাড়ির পুজো করে ফেলেছেন।       বাড়ির সবাই আমাকে চা...