Search This Blog

Wednesday, November 20, 2019

শ্মশানের ভূত


 দ্বিতীয় পর্ব

    জ্ঞান ফিরল পরদিন সকাল নটায়। ততক্ষণে ঠাকুরমশাই বাড়ির পুজো করে ফেলেছেন।
    বাড়ির সবাই আমাকে চারপাশে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরকে দেখে বুঝতে পারি কাল জ্ঞান হারানোর পর বাবা আমাকে শ্মশান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
    বাবা জিজ্ঞেস করলেন, “কাল তুই শ্মশান ওভাবে ছুটে বেড়াচ্ছিলি কেন আর আমাকে দেখে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলি কেন?”
    আমি কিছু বলার আগেই মা শাসনের সুরে জিজ্ঞেস করলেন, “সবার আগে তুই বল শ্মশানে গিয়েছিলি কেন?”
    রতন ঠাকুর তখনও বাড়িতে ছিলেন। তিনি কালী পুজোর প্রসাদ এর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
   সবাইকে থামিয়ে রতন ঠাকুর আমাকে বললেন, “শোনো এভাবে কিছু বোঝা যাবে না। সুরেশ এক কাজ করো কাল ঠিক কি কি হয়েছিল বলোতো।
    আমি পুরো ঘটনাটা বললাম।
    সব কথা শুনে মা কান্না শুরু করে দিল। বলল, ” বাবা, আর কোনো দিন শ্মশানের রাস্তা দিয়ে বাড়ি আসবি না।
    সমস্ত ঘটনা শুনে ঠাকুর মশাই বললেন, “খুব জোর বেঁচে গেছে সুরেশ।
    কাল তুমি এক দুষ্টু প্রেতাত্মার পাল্লায় পড়ে ছিলে।
    এক ধরনের প্রেত আছে যারা অনেকটা ডাকিনীর মত। এরা ব্রহ্মদৈত্য নামে পরিচিত।
    নির্জন স্থানে কাউকে একা দেখলে তার সামনে মায়া সৃষ্টি করে। তারপর তাদের গলা মটকে নিজের দলের ওজন বৃদ্ধি করে।
   তুমি ওই গাছের নিচে দাঁড়ান মাত্র সে মায়ার সৃষ্টি করেছিল।
    গতকাল শ্মশানে কাউকেই পোড়ানো হয়নি। সব তার মায়া ছিল।
    যতদূর মনে হয় নির্জন স্থান দেখে সে ওই বট গাছে আস্তানা গেড়েছে।


 “কিন্তু ঠাকুর মশাই তার মায়া যদি এতই ভয়ানক তবে সে আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি কেন?”

   
ঠাকুর মশাই আমার হাতে বাঁধা একটা লাল সুতোর দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, “গত বছর কালি পূজোর পর এই সূতোটা তোমার মা তোমার হাতে বেঁধে দেয়।
   এই প্রবিত্র সূতোর শক্তির জোরেই প্রেত তোমাকে স্পর্শ করতে পারেনি।
    “দেখলি বাবা, আমি বলেছিলাম না এই সূতো হাতে বাঁধা থাকলে কেউ তোর অনিষ্ট করতে পারবে না। প্রতি বারেই তোকে জোর করে পরাতে হয়।”, মা আবার কান্নার সুরে বলল।

   
ঠাকুর মশাই আবার বললেন, “কিন্তু যখন তুমি তাকে নিজে থেকেই স্পর্শ করো তখন তার মায়া দুর্বল হয়ে যায়। তার আসল রূপটা ধীরে ধীরে তোমার সামনে উন্মোচন হওয়া শুরু হয়।
   তুমি শুধু তার চোখের সাদা গর্তটা দেখেছিলে।
   কিন্তু আরও কিছুক্ষণ ওভাবে তার দিকে তাকিয়ে থাকলে দেখতে একটা কঙ্কাল তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
   মায়া ভেঙে যাওয়ার পর আর কোন উপায় না দেখে সে তোমাকে তাড়া করা শুরু করে।
   চেষ্টা করে যেন যে কোনো প্রকারে তোমার হাত থেকে সূতোটা খুলে পড়ে যায়।
   আর সেটা হলেই তোমার চরম সর্বনাশ হতো।
    কিন্তু কথায় আছে রাখে হরি মারে কে।
   তোমার মায়ের বিশ্বাস আর কালী মায়ের আশীর্বাদ এর জন্য এযাত্রায় বেঁচে গেলে সুরেশ।

   
বাবা বললেন, “ঠাকুর মশাই, আমি সেই পেতাত্মা কে দেখতে পেলাম না কেন? আমিও তো সেখানেই উপস্থিত ছিলাম। সুরেশ তো আমার সামনেই অজ্ঞান হয়ে গেল।
    “আসলে প্রেত ওই গাছের উপরেই ছিল এবং তার মায়ার জন্য সুরেশ তাকে নিজের সামনে দেখে। তাছাড়া সে শুধু সুরেশ এর উপর মায়ার সৃষ্টি করেছিল। ভাবতে পারেনি এই ঝড় বৃষ্টির সময় অন্য কেউ সেখানে আসবে।ঠাকুর মশাই বাবাকে উত্তর দিলেন।

   
রতন ঠাকুরের কথা শুনে মা বলল, ” দাদা, আপনি এতকিছু জানলেন কি করে?”

    “
এক সময় এসব বিষয় নিয়ে বিস্তর চর্চা করেছি। ইচ্ছা ছিল বড় তান্ত্রিক হওয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ধৈর্য রাখতে পারিনি। সংসারের টান যে অনেক বড় টান।

    “
একেবারে যে ব্যর্থ হয়েছি তা নয়। কিছু শক্তি  পেয়েছি। কিন্তু এসব তো আর সবাইকে বলা যায় না।

   
প্রসাদ গ্ৰহণ খাওয়া দাওয়ার পর বাবা ঠাকুর মশাই কে বললেন, “আচ্ছা দাদা, এই প্রেতাত্মার তো একটা বিহিত করা দরকার। তা না হলে সেই গাছের নিচে দিয়ে কেউ গেলে তো অকালে প্রাণ হারাবে। এই বিপদ থেকে বাঁচার কি কোনো উপায় নেই ?”
    “উপায় একটা আছে এবং তা এখনই করতে হবে।
    মাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আবার বললেন, “একটা পাত্রে কালী মায়ের পূজো করা প্রবিত্র জল এনে দাও তো বৌমা।

   
মা সাথে সাথে ঠাকুর মশাই কে পূজোর চান জল এনে দিল।

    “
এতেই কাজ হবেএই বলে তিনি শ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।
    আমরাও তাঁর সঙ্গে চললাম।
    এতক্ষণ গ্রামের অনেকেই ঘটনাটি জেনে গিয়েছিল। তাই তারাও আমাদের সঙ্গে হাটতে লাগল।

   
সেই ভিড়ের মধ্যে আমি রামলাল কেও দেখলাম।
    তাকে দেখে আমার সারা শরীর জ্বলে উঠলো। ইচ্ছে হলো কাছে ডেকে মাথায় দু-চারটে গাট্টা মারি। তারপর ভাবলাম কালকের ঘটনার জন্য তার তো কোন দোষ নেই। তাই তাকে গাট্টা মারার কথাটা মন থেকে সরিয়ে ফেললাম। 

   
আমরা সবাই সেই বট গাছের নিচে এসে উপস্থিত হলাম। এরপর ঠাকুর মশাই বটগাছ থেকে প্রেত তাড়ানোর ব্যাবস্থা শুরু করলেন।

     
ক্রমশ চলবে

এই গল্প সম্পর্কে আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া  থাকলে  তা কমেন্টে জানান। 

No comments:

Post a Comment

শ্মশানের ভূত

  দ্বিতীয় পর্ব     জ্ঞান ফিরল পরদিন সকাল নটায়। ততক্ষণে ঠাকুরমশাই বাড়ির পুজো করে ফেলেছেন।       বাড়ির সবাই আমাকে চা...