Search This Blog

Sunday, July 28, 2019

ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৪ )

ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৪ )
সবাইকে পরিষ্কারের কাজে লাগিয়ে দিয়েছি।অনেকদিন পর এত বড় দু’টা দাওয়াত, চাল থেকে ক্ষুদ বাছার মত করে ঘর পরিষ্কার করতে হবে।
একটু পরেই আমার ছেলের দেখা পেলাম, কিন্তু ওর তো এখন বাসায় থাকার কথা নয়!
-‘তুমি বাসায় কেন?’
-‘আজ আর বের হব না।’
বুঝ্লাম আরও একবার প্রশ্ন উত্তরের মুখোমুখী হতে হবে।
ও শুধু হাতে নাতে প্রমানের অপেক্ষায় রয়ে গিয়েছে, আর ও জানলেই’ বন্দুকধারী’জেনে যাবে । অবশ্য ওদেরকে তো এক সময় না এক সময় জানাতেই হবে!
ঝন ঝন’ শব্দে চারিদিক খান খান হয়ে গেল, তার সাথে মতিবিবির খনখনে গলা, ‘গেল গেল, সব খান খান হয়ে গেল!’ লবি থেকে আওয়াজটা এসেছে। সবার আগে ছেলে দৌঁড়ে গিয়েছে আর মতিবিবিও ভাঙ্গা কোমরে দৌঁড়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। আমি তৃতীয়।দেখলাম দোউখানু একটু হতভম্ব হয়ে একটা কাচের জার হাতে বসে রয়েছে।
‘আসতে না আসতেই সর্বনাশে লেইগে পড়েছো!’
‘কই! কিছু হয়নি তো মতি আম্মা!’
বুড়ো দামড়া, আমি তোর আম্মা হব কেন! ও তুই মিডামোকে ডাক! কিন্তু ভাঙ্গলি কেন!’
-‘কই কিছু ভাঙ্গে নাই তো!’ দোউখানুর নির্লিপ্ত উত্তর । দোউখানুর হাতে আস্ত একটা জার।
মতিবিবি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে।
-‘কিন্তু, ওটা তো ভেইঙ্গে টুকরা হয়ে পড়েছিল মাটিতে!’
আমার ছেলে একদম চুপ।
-‘মতিবিবি, তোমার চোখে মনে হয় ছানি পড়েছে, বয়েস তো কম হল না!’
দোউখানুও সায় দিল।
-‘মিডাম যে কি বুইললেন! এত কম বয়সে ছানি পড়ে নাকি!’
-‘দোউখানু তুমি কাজ কর।’
আমার সাথে সাথে আমার ছেলেও আমার ঘরে চলে এসেছে।
-‘আমি যে দেখলাম,ভাঙ্গা জারটা নিমেশে জোড়া লেগে গেল! ‘ ও আমার দিকে খুব সতর্ক ভাবে তাকিয়ে আছে। আমি নিশ্চুপ!
-‘ওই লোকটা কে আম্মু? মানুষ নয় তাই না?’
-‘ হ্যাঁ ‘
বেশ খুশী হয়েছে মনে হল।
-‘বাবা জানেন? আর হুজুর মামার কি করবে? বাবাকে জানানোর সময় আমাকে ডেকো।’
বুঝ্লাম মজা দেখতে চায়’
-‘আচ্ছা’
রাত দশটায় বন্দুকধারীকে সরাসরি জানালাম যে আমি একজন জ্বীন বাবুর্চি নিয়োগ করেছি যে কিনা আমার পূর্ব পুরুষ বিলকিস বেগমের প্রতি আসক্ত ছিল, এবংশাহজাদী বেগমও তার প্রতি আসক্ত হন।
-‘যার ছবি তোমাদের বাড়ির সিড়িঘরে ঝুলানো আছে?’
বন্দুকধারী যেন কল্পনায় বিলকিস বেগমকে দেখতে চেষ্টা করলেন, এবং তন্ময় হয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।মনে হল উনি জ্যান্ত বিলকিস বেগমকেই দেখছেন।
-‘কিন্তু ও তো তোমার প্রতিও আসক্ত হতে পারে, অবশ্য বিলকিস বেগমকে দেখার পর তোমার প্রতি আসক্তির কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
গম্ভীর ভাবে জানালাম যে দোউখানু আমাকে মাতৃতুল্য ভাবে।
উত্তর এলো, ‘আসলে শাহজাদী বিলকিস বেগমকে দেখার পর অন্যদেরকে মাতৃতুল্য ভাবাটাই স্বাভাবিক। আহা! কি রূপ!’
আমি বললাম, ‘রূপের কথা এখন থাক!’

Wednesday, July 24, 2019

” ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৩ )

ঘড়া একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৩ ) 
আজিজ তো আবার মৌলবি মানুষ! জ্বিন আর মানুষের তফাৎ বুঝতে পারলে তো হয়েই গেল! নিজেই জ্বিন তাড়ানোর ব্যবস্থা করে ফেলবে, আর যদি আমার ছেলের জ্বিন হুজুর্ִ মামা এসে হাজির হন তাহলে তো দোউখানু ঘড়া বন্দী হবে! নাহ ওনাকে এই সাত দিনের মধ্যে আসতে দেওয়া চলবে না।দাওয়াতের লিস্ট থেকে উনি বাদ । তাই বা কি করে হয়! দাওয়াত তো ওনাকে দিতেই হবে। কি জানি এর মধ্যেই উনি জেনে গেলেন কিনা। আজিজকে না হয় সামাল দিয়ে ফেলবো কিন্তু জ্বিন হুজুর মামা?!
এই মূহুর্তে মতিবিবিকে আমার আর সহ্য হচ্ছে না ।সমস্যাগুলো মাথায় কিলবিল করছে।
-‘মতিবিবি,তুমি দেখ গিয়ে তোমার নতুন এ্যাসিস্টান্ট কি করছে।
-‘কিন্তু মিডাম,আমি একটা কড়াই খুঁজে পাচ্ছি না…’
-‘ওটা কাল রাতে রিনি নিয়ে গিয়েছে,বলেছে কড়াইয়ের বাচ্ছা সহ ফেরত দেবে।এখন যাও তো!
-‘আর দিয়েছে…’
হঠাৎ রান্নাঘরের দিক থেকে ধপাশএকটা আওয়াজ হল আর দোউখানু নিমেশে আমার সামনে হাজির।
-‘উনি তো অচেতন হয়ে পড়ে আছেন…’
-‘কে অচেতন হয়েছে?’
-‘ওই মতিবিবি …’
-‘কেন? ‘
-‘মনে হয় আমি সব কাজ করে ফেলেছি তাই…’
-‘কি কি করেছো তুমি? ‘
-‘ষোল পদের ব্যাঞ্জণ, আর দুই পদের অন্ন। আমাকে মাফ করে দিন সন্দেশ মিডামআমি ওনাকে বেহুশ করিনি, ওনার হাঁসি দেখলে আমারই বেহুশ হতে ইচ্ছে করে। তাই তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে সরে পড়তে চেয়েছিলাম…’
মিডাম বল তাহলেই চলবে।
-‘পানি ঢেলে এসেছি, একটু পরেই হুশ ফিরে আসবে ওনার।
-‘ঠিক আছে, রান্নাঘরে থেকে খাবার নিয়ে চিলেকোঠায় চলে যাও। দুই ঘন্টা পরে আমার সাথে দেখা কর।দাওয়াতের বাজারের ফর্দ তৈরী করতে হবে।
নাহ,পরিকল্পনা করে কোন লাভ নেই,আমার ফৌজি স্বামীর মত তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে
দোউখানুকে দুই ঘন্টা পর ঘরের দরজায় উঁকি ঝুঁকি দিতে দেখলাম। নির্দেশ অনুযায়ী চলে এসেছে। বেশ হাসি খুশী দেখাচ্ছে দোউখানুকে। ভিতরে ডাকলাম ওকে।
-‘বেশ হাসি খুশী দেখাচ্ছে তোমাকে দোউখানু?’
-‘জি মিডাম আম্মা,সবার সাথে পরিচয় হল। আপনার দোকানে যারা সেলাইয়ের কাজ করে ওদের সবার সাথে । রহিমা বলেছে কোনো সমস্যা হলে সে দেখিয়ে দেবে।
-‘হু,শুধু মেয়েদের সাথেই দেখা হয়েছে তাই না?’
জি মিডাম আম্মু।
-‘বিপদ কাটে নাই দোউখানু, আরও দুজন বাকি আছে এখনও। না,ভুল বললাম, অনেকেই বাকি আছে। তৈরী থেকো।
-‘জি মিডাম আম্মা।
-‘আম্মা শব্দটা যোগ না করলেই কি নয়?’
-জি আম্মা, আর হবে না।
-‘এখন বল, দাওয়াতের জন্য কি কি রান্না করবে? মনে রেখ, পর পর দুইটা দাওয়াত।
-নও রতন পোলাউ, কমলা পোলাউ, গরুর শাহী রেজালা, পাসিন্দা কাবাব,পাকা রুইয়ের কালিয়া , কই মাছের গঙ্গা যমুনা, ঝলসানো খাসীর রান, ফুলকপির আচার, মটরশুটি দিয়ে বাঁধাকপির ডালনা,পৃথিবীর সব রকম আঙুর জাতীয় ফল দিয়ে ফলের সালাদ, সব রকমের বাদাম দিয়ে ঘন ক্ষীর। ওহ! মুড়ো ঘন্টও হবে! আমার হতে পারত শাশুড়ী আম্মা সন্দেশজাদীখুব ভালো বানাতেন ওটা। আমি দেখে দেখে শিখে নিয়েছিলাম। আরও আছে, খাটি জাফরান আর বাদাম দিয়ে শরবত।
অক্ষি বলয়্গুলোতে চোখে দুটোকে আর ধরে রাখতে পারছি না, ওরা বোধ হয় এবার টুপ টুপ করে ঝরে পড়বে! দুর্বল হার্টের দ্রুত লয় শুনতে শুনতে অনিচ্ছা সত্যেও রাজী হলাম।
-‘কিন্তু মিডাম, চালগুলো একদম খাঁটি বাসমতি হতে হবে, শুধু ঘাস খেয়েছে এরকম গরু আর খাসী হতে হবে, গরুর দুধ ও ঘী শুধু ঘাস খায়এরকম গরুর হতে হবে। আনাজগুলো সব গোবর সার দেওয়া জমির হতে হবে। আজকে রান্না করতে গিয়ে দেখলাম, কোনো কিছুই খাঁটি নয়। আর মশলা নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত। ওগুলো আমি জোগাড় করব। আপনি বাকি সব কিছু এনে দিন।
তাড়াতাড়ি চোখের ঠিক নিচে হাত দুটো পেতে ধরলাম , চোখগুলো বেরিয়ে পড়লে যাতে সময় মত ধরে ফেলতে পারি।
হাউ মাউ কান্না, আর দুড় দাড় দৌড়ের শব্দে চমকে উঠলাম। মতিবিবি আড়ি পেতেছিল, মরা কান্না কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে চলে গেল।
-‘উনি বোধ হয় আবার অচেতন হলেন!
দোউখানুর দিকে অগ্নি দৃষ্টি হানলাম!
-‘কিন্তু এসব আমি জোগাড় করব কি করে দোউখানু! এসব তো এখন আর পাওয়া যায় না, আর পেলেও অনেক টাকার প্রয়োজন!
-‘আমি কোহেকাফের সাথে কথা বলেছি, ওখানকার বাবুর্চি সম্প্রদায় বলেছে, সব জোগাড় করে দেবে। টাকা দিলে সব পাওয়া যাবে, যদিও কোহেকাফে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন রয়েছে । আপনি টাকায় দাম শোধ করবেন, আর ওরা এখান থেকে সেই পরিমান স্বর্ণ কিনে কোহেকাফের ব্যাবসায়ীদের দেবে । ফল, বাদাম, মশলা আমি জোগাড় করব, গোটা পৃথিবী একবার চক্কর দিলেই হবে, তবে, কমলা আর মধু কিনতে হবে অস্ট্রেলিয়া থেকে, যদিও তুর্কীদের দেশের মধু সব চাইতে ভালো । জাফরান না হয় ইরান থেকেই নিয়ে আসব।আর আঙুর জাতীয় ফল রাশিয়ার বনে জঙ্গলে পাওয়া যাবে ।ওই কমলা, মধু আর জাফরানটাই কিনতে হবে!
-‘নও রতনের বাদামগুলো?’
ও নিয়ে ভাববেন না, কোহেকাফের ওরা জোগাড় করে দেবে ।
কত টাকা লাগবে?’
-‘মিডাম আম্মু, আমি তো এখনকার টাকার হিসেব বুঝি না, ওরা বলেছে সাত লক্ষ লাগবে।
-‘কিন্তু, তুমি যে সেদিন আমার সাথে বেতন নিয়ে দামদস্তুর করলে?’
-‘ওহ, আপনি বললেন সাত হাজার, আর আমি তাই বললাম দশ হাজার, বেতন সব সময় বাড়িয়ে চাইতে হয়.। তবে টাকা দিয়ে আমি কি করবআপনি আমার মাতৃতুল্য…’
ভেবেছিলাম, দুই লক্ষে কাজ হয়ে যাবে, কিন্তু আরও পাঁচ লক্ষ লাগবেপানি খেতে ইচ্ছে হল!
কিন্তু উপায় নেইনিজের ফাঁদে নিজেই পা দিয়েছি!
-‘কিন্তু মা মনি,রান্নার সময় মতিবিবির থাকা চলবে না। প্রথমত ওনার চুল বড়ই দৃষ্টিকাড়া, আর উনি আমার কাজের ধরণ দেখলে আবারও অচেতন হয়ে পড়বেন ।
-‘মা মনি?? এটা আবার কখন শিখলে?’
-‘ওই যে রহিমার সাথে বসে একটু টেলিভিশন দেখেছিলাম।
নাহ! এরা আমার ব্যাবসা লাটে তুলবে!
যাই হোক, এখন এসব ভাবার সময় নেই, অনেক বড় বড় ঝড় সামাল দেওয়া বাকি আছে
-‘আপনি চিন্তা করবেন না মামনি মিডাম, ওনার সেলাইয়ের কাজ আমি করে দিয়েছি…’
মতি সমস্যা ভুলে, রহিমা সমস্যা সমাধান জরুরী হয়ে পড়েছে!
-‘দোউখানু, তুমি কি জান, রহিমার স্বামী অতিমাত্রায় সন্দেহবাতিক? একটু সাবধানে থেক। তুমি নিঃশ্চয় চাও না রহিমা বকা খাক?
কিন্তু, মতিবিবিকে কিভাবে রান্নার সময় সরিয়ে রাখবে? এটা একেবারেই অসম্ভব। তুমি তার এসিস্ট্যান্ট।
-‘স্সন্দেশ আম্মু, আপনি অনুমতি দিলে ওনার কোমরের ব্যাথা একটু বাড়িয়ে দিতে পারি।
দুজোড়া চোখ একটু হলেও ঝিকিয়ে উঠল, বললাম, ‘দেখ,পানিটা অল্পই ফেল, আর লক্ষ্য রেখ যেন বেশি বাথ্যা না পায়। পরের দাওয়াতের সময় অন্য ব্যবস্থা করা যাবে। এখন জোগাড় যন্ত্রে লেগে যাও।
দোউখানু জানালো যে ও কাল সকালে বিশ্ব ভ্রমণে বের হবে আর আমি ৫ লক্ষের চিন্তায় বাতিব্যাস্ত হলাম। পাঁচ লক্ষ জোগাড়ের চিন্তায় খাতা কলম নিয়ে হিসেবে বসেছি।

Saturday, July 13, 2019

স্বপ্ন

স্বপ্ন 


স্বপ্ন মানুষের একটি মানসিক অবস্থা, যাতে মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় বিভিন্ন কাল্পনিক ঘটনা অবচেতনভাবে অনুভব করে থাকে। ঘটনাগুলি কাল্পনিক হলেও স্বপ্ন দেখার সময় সত্যি বলে মনে হয়। অধিকাংশ সময় দ্রষ্টা নিজে সেই ঘটনায় অংশগ্রহণ করছে বলে মনে করতে থাকে। অনেক সময়ই পুরনো অভিজ্ঞতার টুকরো টুকরো স্মৃতি কল্পনায় বিভিন্নভাবে জুড়ে ও পরিবর্তিত হয়ে সম্ভব অসম্ভব সব ঘটনার রূপ নেয়। স্বপ্ন সম্বন্ধে অনেক দর্শন, বিজ্ঞান, কাহিনী ইত্যাদি আছে। স্বপ্নবিজ্ঞানের ইংরেজি নাম Oneirology। কিছু স্বপ্নবিজ্ঞানীর মতে নিদ্রার যে পর্যায়ে কেবল আক্ষিগোলক দ্রুত নড়াচড়া করে কিন্তু বাকি শরীর শিথিল (সাময়িকভাবে প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত) হয়ে যায় সেই REM (Rapid eye movement, দ্রুত চক্ষু আন্দোলন) দশায় মানুষ স্বপ্ন দেখে। কিন্তু এই বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। পেটে কোনো সমস্যা থাকলে বা উল্টো পাল্টা বেশি কিছু খেলে স্বপ্নের মাত্রা বাড়তে পারে।
স্বপ্ন হল ধারাবাহিক কতগুলো ছবি ও আবেগের সমষ্টি যা ঘুমের সময় মানুষের মনের মধ্যে আসে। এগুলো কল্পনা হতে পারে, অবচেতন মনের কথা হতে পারে, বা অন্য কিছুও হতে পারে, শ্রেণীবিন্যাস করা বেশ কষ্টকর। সাধারনত মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখে, তবে সবগুলো মনে রাখতে পারে না।স্বপ্নের অর্থ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন লোক ভিন্ন ভিন্ন মতামত পোষণ করেছে যা সময় এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে। অনেকেই স্বপ্ন সম্পর্কে ফ্রয়েডীয় তত্ত্বকে সমর্থন করেন যে স্বপ্ন মূলত মানুষের গোপন আকাঙ্ক্ষা এবং আবেগগুলির বহিঃপ্রকাশ । অন্যান্য বিশিষ্ট থিওরিগুলোতে সুপারিশ করা হয়েছে যে স্বপ্ন মেমরি গঠন, সমস্যা সমাধান এবং মস্তিষ্ককে সক্রিয়করণ করতে সাহায্য করে । প্রায় ৫০০০ বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় স্বপ্ন সম্পর্কে যে প্রাচীন রেকর্ডগুলি পাওয়া গিয়েছিল তা মূলত কাদামাটি দিয়ে তৈরি ট্যাবলেটগুলিতে নথিভুক্ত ছিল। গ্রিক এবং রোমান যুগে মানুষ বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্নগুলি এক বা একাধিক দেবতার কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বার্তা অথবা মৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আসা বার্তা যা প্রধানত ভবিষ্যদ্বাণী হিসাবে গণ্য করা হতো । কিছু কিছু সংস্কৃতির লোক স্বপ্নের চর্চা করত স্বপ্ন চাষের উদ্দেশ্য ।
১৯০০ এর দশকের প্রথম দিকে সিগমুন্ড ফ্রয়েড মনোবিশ্লেষণের মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খলা বিকাশ করেছিলেন তাছাড়া স্বপ্নের তত্ত্ব ও তাদের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ব্যাপকভাবে লিখেছিলেন। তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেছিলেন গভীরতম আকাঙ্ক্ষা এবং উদ্বিগ্নতা প্রকাশের মাধ্যমকে অবলম্বন করে যা প্রায়ই দমনমূলক শৈশব স্মৃতি বা আচ্ছন্নতা সম্পর্কিত । অধিকন্তু, তিনি বিশ্বাস করতেন যে বস্তুগতভাবে তার স্বপ্নের বিষয়টি অবশ্যই যৌন উত্তেজনা মুক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। Interpretation of Dreams (1899) এর মধ্যে, ফ্রয়েড স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার জন্য একটি মানসিক কৌশলকে বিকশিত করেছিলেন এবং একটি ধারাবাহিক নির্দেশিকা দিয়েছিলেন যা আমাদের স্বপ্নে প্রদর্শিত symble এবং motifs বুঝতে সাহায্য করবে । আধুনিক যুগে স্বপ্নকে অবচেতন মনের একটি সংযোগ হিসাবে দেখা হয় । তারা স্বাভাবিক থেকে সাধারণকে এবং অত্যধিক surreal থেকে উদ্ভট এর পরিসীমা নির্ধারণ করেছেন । স্বপ্ন বিভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে । যেমন, ভয়ঙ্কর, উত্তেজনাপূর্ণ, জাদুকর, মর্মান্তিক, সাহসিক, বা যৌন উত্তেজনা সংক্রান্ত । স্বপ্নের ঘটনাগুলি সাধারণত যিনি স্বপ্ন দেখেন তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে । ব্যতিক্রম কিছু স্বপ্ন আছে যেখানে স্বপ্নদর্শক আত্ম সচেতনতার পরিচয় দেয়। মাঝে মাঝে স্বপ্নের মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে সৃজনশীল চিন্তাধারার উদ্রেক হতে পারে যার ফলে সে অনুপ্রেরণাও অনুভব করতে পারে।

চীন ইতিহাস

ড্রিমিং একটি সাধারণ শব্দ আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে চিরস্থায়ী নির্মাণের "নিরবধি সময়" হিসাবে বোঝাত যা ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীর গঠনমূলক সৃষ্টি হিসাবে বর্ণনা করা হতো ।
৩১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মেসোপটেমিয়ায় সুমেরীয়রা স্বপ্নের নিদর্শন রেখে গিয়েছিলেন। সপ্তম শতাব্দীর বিদ্বান-রাজা Assurbanipa এই প্রারম্ভিক রেকর্ডকৃত দেব-দেবতাদের কাহিনী অনুসারে স্বপ্নের প্রতি মনোযোগ দিয়েছিলেন । কাদামাটির ট্যাবলেটগুলির আর্কাইভের মধ্যে কিংবদন্তি রাজা গিলগামেশের গল্পের কিছু বিবরণ পাওয়া গিয়েছিল ।
মেসোপটেমিয়ার লোকদের বিশ্বাস ছিল যে আত্মা বা তার কিছু অংশ ঘুমন্ত ব্যক্তির শরীর থেকে বেরিয়ে আসে যা প্রকৃতপক্ষে ঐসব স্থান এবং ব্যক্তিদের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় যা স্বপ্নদর্শীরা তাদের ঘুমের মধ্যে দেখে । কখনও কখনও স্বপ্নের দেবতারা স্বপ্নদর্শীকে বহন করতে বলে। [15] ব্যাবিলনীয়রা এবং আসিরিয়ানরা স্বপ্নকে বিভক্ত করেছিল "ভাল" যা দেবতাদের দ্বারা প্রেরিত হয়েছিল এবং "মন্দ" যা ভূতদের দ্বারা পাঠানো হয়েছিল । তারা এও বিশ্বাস করতো যে তাদের স্বপ্ন ছিল নিখুঁত এবং ভবিষ্যদ্বাণী সংবলিত ।
২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে প্রাচীন মিশরে মিশরীয়রা তাদের স্বপ্নগুলোকে প্যাপিরাসে লিখেছিল। প্রাণবন্ত এবং উল্লেখযোগ্য স্বপ্নগুলু মানুষদের কাছে আশীর্বাদ এবং বিশেষভাবে বিবেচিত ছিল। প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করত যে স্বপ্ন দেবতাদের কাছ থেকে বার্তা নিয়ে আসার মত শব্দগুচ্ছ ছিল। তারা মনে করত যে ঐশ্বরিক সান্নিধ্য লাভের সর্বোত্তম উপায় ছিল স্বপ্ন দেখা । তাই মিশরীয়রা দেবতাদের কাছ থেকে পরামর্শ, সান্ত্বনা, বা নিরাময় পাওয়ার আশায় বিশেষ ধরনের "স্বপ্নের বিছানা" এর মধ্যে ঘুমাত ।

ক্লাসিকাল ইতিহাস:

চীনা ইতিহাসে, মানুষ আত্মার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে লিখেছিলেন, যার মধ্যে একটি স্বপ্নের রাজ্যে যাত্রার সময় শরীর থেকে মুক্তি পায় এবং অন্যটি দেহে অবস্থান করে, যদিও শুরু থেকেই এই বিশ্বাস ও স্বপ্নের ব্যাখ্যা দার্শনিক ওয়াং চং (২৭- ৯৭ খ্রিস্টাব্দ) দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। ৯০০ এবং ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে লিখিত ভারতীয় পাঠ উপনিষদে স্বপ্নের দুটি অর্থের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। প্রথমটি বলে যে, স্বপ্ন হল মনের ভিতরের নিছক ইচ্ছার অভিব্যক্তি মাত্র। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ঘুমের সময় আত্মা দেহ ত্যাগ করে এবং জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত ঐটি দ্বারা দেহ পরিচালিত হয়।
গ্রিকরা মিশরীয়দের সাথে তাদের বিশ্বাসকে এক করে নিয়েছিল, যেমন কীভাবে ভাল ও মন্দ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা যায় এবং স্বপ্নগুলোকে সন্নিবেশ করা যায়। গ্রিকের স্বপ্ন দেবতা মরফিয়াস, যারা মন্দিরগুলিতে ঘুমাতো তাদের জন্য সতর্কবাণী ও ভবিষ্যদ্বাণী পাঠিয়েছিলেন। স্বপ্নের ব্যাপারে গ্রীকদের প্রাথমিক বিশ্বাস ছিল যে, তাদের দেবতারা স্বপ্নদর্শীদের কাছে সশরীরে দেখা দিতেন, যেখানে তারা কীহোলের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতেন, ঐশ্বরিক বার্তা দেওয়ার পর একই ভাবে তারা প্রস্থান করতেন।
পঞ্চম খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে এন্টিফন(Antiphon) স্বপ্ন নিয়ে প্রথম গ্রীক বই লিখেছিলেন। সেই শতাব্দীতে, অন্যান্য সংস্কৃতি গ্রিকদের বিশ্বাসকে প্রভাবিত ছিল যে, আত্মা ঘুমানোর সময় শরীর ছেড়ে চলে যায়। হিপোক্রেটস (৪৬৯-৩৯৯ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ) স্বপ্ন নিয়ে একটি সহজ তত্ত্ব দিয়েছিলেন: দিনের বেলা মানুষের আত্মা স্বপ্ন সংক্রান্ত চিত্র গ্রহণ করে এবং রাতের বেলা পূর্ণাঙ্গ একটি ছবিতে রূপদান করে। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (৩৮৪-৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্ন হল শারীরিক কার্যকলাপ। তিনি মনে করতেন স্বপ্ন রোগের বিশ্লেষণ এবং কোন ধরনের রোগ হতে পারে তার জন্য ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। মার্কাস টুলিয়াস সিসেরো বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্ন মূলত তাই যা স্বপ্নদর্শী দ্বারা পূর্বের দিনগুলিতে আগেই চিন্তা করা হয়েছিল। সিসেরোর Somnium Scipionis দীর্ঘ স্বপ্নের বর্ণনা দিয়েছিলেন, যা ম্যাক্রোবিয়াস তার Commentarii in Somnium Scipionis তে মন্তব্য করেছিলেন।

আব্রাহামিক ধর্মের দিক থেকে:

ইহুদীধর্মের মধ্যে স্বপ্নকে পৃথিবীর অভিজ্ঞতার অংশ বলে বিবেচিত হয়। যেমন, কোন ধরনের পাঠ গ্রহণ এবং ব্যাখ্যা করা করা যেতে পারে। এটি Talmud, Tractate Berachot ৫৫–৬০ -এ আলোচনা করা হয়েছিল।
হিব্রুরা তাদের ধর্মের সাথে স্বপ্নকে যুক্ত করেছিল, যদিও হিব্রুরা একেশ্বরবাদী ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্নগুলি একমাত্র ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত ধ্বনি ছিল। এছাড়া হিব্রুরা ভাল স্বপ্ন(ঈশ্বর থেকে) এবং খারাপ স্বপ্ন (মন্দ আত্মা থেকে) এর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছিলেন। হিব্রুরা অন্যান্য প্রাচীন সংস্কৃতির মত ঐশ্বরিক বানী কে ব্যাখ্যা করার জন্য স্বপ্নের সাহায্য নিতেন। উদাহরণস্বরূপ, হিব্রু ভাববাদী সেমূয়েল "শীলোর মন্দিরের মধ্যে শুয়ে ঘুমাতেন এবং প্রভুর বাক্য গ্রহণ করতেন।" বাইবেলের "Genesis" অংশে স্বপ্নগুলোর কথা উল্যেখ করা হয়েছে।
খ্রিস্টানরা বেশিরভাগই হিব্রুদের সাথে তাদের বিশ্বাস ভাগ করে নিয়েছিল। তারা মনে করতেন যে স্বপ্ন একটি অতিপ্রাকৃত চরিত্র। ওল্ড টেস্টামেন্টে ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণা সংবলিত অনেক স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে। এই স্বপ্ন সংক্রান্ত কাহিনীগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল জ্যাকব এর স্বপ্ন যেটি পৃথিবী থেকে স্বর্গ পর্যন্ত বিস্তৃত। অনেক খ্রিস্টান প্রচার করেন যে ঈশ্বর স্বপ্নের মাধ্যমে মানুষের সাথে কথা বলতে পারেন।
"Iain R. Edgar" ইসলামে স্বপ্নের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেছেন । তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, স্বপ্ন ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলমানদের জীবনযাত্রার উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, কারণ স্বপ্নের ব্যাখ্যা হচ্ছে একমাত্র উপায় যা মুসলমানরা শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর কাছ থেকে যে প্রত্যাদেশ লাভ করতেন তা থেকে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।
হিন্দুধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে:
"Mandukya Upanishad" ভারতীয় হিন্দুধর্মের বেদ ধর্মগ্রন্থের একটি অংশ, এখানে স্বপ্নের তিনটি অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম অবস্থা হচ্ছে আত্মা তার জীবদ্দশায় অভিজ্ঞতা লাভ করে। অন্য দুইটি অবস্থা হচ্ছে জাগ্রত অবস্থা এবং ঘুমন্ত অবস্থা।
ক্লাসিকাল উত্তর এবং মধ্যযুগীয় ইতিহাস:
কিছু আদিবাসী আমেরিকান উপজাতি এবং মেক্সিকান সভ্যতার লোকেরা বিশ্বাস করত যে, স্বপ্ন হল একটি উপায় যার মাধ্যমে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের দেখতে এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। কয়েকটি আদি আমেরিকান উপজাতি স্বপ্নের মাধ্যমে উপদেশ গ্রহণ না করা পর্যন্ত উপবাস ও প্রার্থনা করে। স্বপ্ন থেকে প্রাপ্ত উপদেশ তারা বাকিদের সাথে শেয়ার করে।
মধ্যযুগে স্বপ্নকে একটি কঠোর ব্যাখ্যায় উন্নীত করা হয়েছিল। তাছাড়া স্বপ্নের ইমেজ গুলোকে শয়তান এর প্রলোভন হিসাবে মনে করা হত। অনেকে বিশ্বাস করতেন যে, ঘুমের সময় শয়তান মানুষের মনকে কলুষিত ও ক্ষতিকারক চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত করতে পারে। প্রোটেস্টান্টিজম এর প্রতিষ্ঠাতা "মার্টিন লুথার" বিশ্বাস করতেন স্বপ্ন হল শয়তানের কাজ। যাইহোক, ক্যাথলিকদের মধ্যে প্রধান, যেমন সেন্ট আগস্টাইন এবং সেন্ট জেরোম দাবি করেন যে তাদের জীবনের দিকগুলি তাদের স্বপ্ন দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

সাধারণ ব্যাখ্যা:

স্বপ্ন ব্যাখ্যাকে মূলত ব্যক্তিত্বমূলক ধারণা এবং অভিজ্ঞতার ফলাফল হিসাবে ধারণা করা যেতে পারে । এক গবেষণায় দেখা গেছে যে অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করে যে "তাদের স্বপ্নগুলি অর্থপূর্ণ এবং লুক্কায়িত সত্য প্রকাশ করে"। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে ৭৪% ভারতীয়, দক্ষিণ কোরিয়ানদের ৬৫% এবং ৫৬% আমেরিকানরা তাদের স্বপ্নের বিষয়বস্তুকে অবচেতন মনের বিশ্বাস এবং অপূরণ আকাঙ্ক্ষার সাথে তুলনা করেছে । স্বপ্নচারণের এই ফ্রয়েডিয়ান দৃশ্যে স্মৃতির একত্রীকরণ, সমস্যা সমাধান বা মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের বৈশিষ্ট্যের উপর বেশি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

উপ শাখা:

দিবাস্বপ্ন(Day Dreaming) :

দিবাস্বপ্ন এক ধরনের ফ্যান্টাসি, সুখ, আনন্দদায়ক চিন্তা, এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রত্যাশা যা স্বপ্নদর্শী জাগ্রত অবস্থায় দেখতে পায়। বিভিন্ন ধরনের দিবাস্বপ্ন রয়েছে। এ সম্পরকে মনোবৈজ্ঞানিকদের মধ্যে কোন সঙ্গতিপূর্ণ সংজ্ঞা নেই। সাধারণ জনগণ এছাড়াও বিস্তৃত অভিজ্ঞতার এই শব্দটি ব্যবহার করে। হার্ভার্ড মনোবিজ্ঞানী ডিরড্রি ব্যারেটের গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা নিখুঁত স্বপ্নের মতো মানসিক অবস্থায় উপনীত হতে পারে তাদের ব্যাখ্যা অনেক কার্যকর। অন্যদিকে, অনেকে মৃদু চিত্রাবলী, বাস্তবিক ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, অতীতের স্মৃতিগুলির পর্যালোচনা বা "স্পেসিং আউট" যেমন একজনের মন আপেক্ষিভাবে ফাঁকা হয়ে যায় - তখন তারা দিবাস্বপ্নের কথা বলে।
দিবাস্বপ্নকে একটি অলসতা, অ-উৎপাদনশীল চিত্তাকর্ষক হিসাবে মনে করা হয়, এটি এখন সাধারণভাবে স্বীকার করা হয় যে ডেড্রিমিং কিছু প্রসঙ্গে গঠনমূলক হতে পারে। এমন উদারণ আছে যেমন সৃষ্টিশীল লেখক, ঔপন্যাসিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতারা দিবাস্বপ্নের মাধ্যমে অনেক সৃজনশীল বা শৈল্পিক কাজ করেছেন। একইভাবে, দিবাস্বপ্ন দ্বারা গবেষণা বিজ্ঞানী, গণিতবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানীরা তাদের নিজস্ব বিষয়ে নতুন নতুন ধারণা গড়ে তুলেছেন।

অমূলপ্রত্যক্ষ(Hallucination):

হেলুসিনেশন শব্দটি বিস্তৃত অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা উদ্দীপক অবস্থার অনুপস্থিতি হলেই একে উপলব্ধি করা যায়। একটি দৃঢ় অর্থে হেলুসিনেশন হচ্ছে সচেতন এবং জাগ্রত অবস্থার অনুভূতি। তাছাড়া তার মধ্য বহিরাগত উদ্দীপনার অনুপস্থিতি এবং বাস্তব ধারণা সংক্রান্ত গুণাবলীর উপস্থিতি রয়েছে। যেগুলি উজ্জ্বল, এবং বাহ্যিক স্থানে লক্ষ্য করা যায়। পরের সংজ্ঞাটি স্বপ্নচারণ সম্পর্কিত ঘটনা থেকে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, যা জাগ্রত অবস্থার জড়িত নয়।
দুঃস্বপ্ন(Nightmare):
দুঃস্বপ্ন একটি অপ্রীতিকর স্বপ্ন যা মন থেকে একটি শক্তিশালী নেতিবাচক মানসিক প্রতিক্রিয়া হতে জন্ম নিতে পারে। সাধারণত ভয় অথবা ভয়াবহ এমনকি হতাশা, উদ্বেগ, দুঃখ থেকেও মানুষ দুঃস্বপ্ন দেখতে পারে। স্বপ্নে বিপদ, অস্বস্তি, মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতার উপস্থিতি থাকতে পারে। ভুক্তভোগী জাগ্রত অবস্থায় মানসিক দুঃশ্চিন্তার মধ্যে থাকে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমাতে পারে না।
রাতের আশঙ্কা(Night terror):
এটি মূলত ভালো ঘুমের বিপরিত হিসাবে পরিচিত। এটি এক ধরনের প্যারাসোমনিয়া ডিসঅর্ডার যা প্রধানত শিশুদের প্রভাবিত করে এর কারণে তারা ভয় পায়। রাতের আশঙ্কাকে দুঃস্বপ্নের সঙ্গে এক করা উচিত নয়, যা ভয়ঙ্কর ভয় বা অনুভূতি কারণে ঘটে থাকে।

গবেষণা

১৯৪০-এর দশক থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ক্যালভিন এস হল পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি স্বপ্ন সম্বন্ধীয় প্রতিবেদন সংগ্রহ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োতে অবস্থিত কেইস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটিতে পেশ করেন। ১৯৬৬ সালে হল এবং ভ্যান দ্য ক্যাসল দ্য কন্টেন্ট এনালাইসিস অফ ড্রিমস নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। গ্রন্থে তাঁরা কোডিং পদ্ধতির মাধ্যমে এক হাজার কলেজ ছাত্রের স্বপ্নের প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন। সেখানে তাঁরা দেখিয়েছেন যে, সমগ্র বিশ্বের জনগণ সাধারণত একই ধরনের বিষয় নিয়ে স্বপ্ন দেখে। হলের পূর্ণাঙ্গ স্বপ্ন সংবলিত প্রতিবেদন ১৯৯০ এর মাঝামাঝি সময়ে তার উত্তরসূরী উইলিয়াম ডোমহফ কর্তৃক জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়। সেখানে আরও ভিন্ন বিশ্লেষণ দেখা যায়। স্বপ্নে মানুষ অধিকাংশ সময়ই গত দিন বা গত সপ্তাহের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কিত কিছু দেখে।

জৈবিক ধারা

ক্যালভিন হলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, যৌবনে মানুষের মোট স্বপ্নের ১০ শতাংশের বেশি যৌন বিষয়ে হয় না। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় যে, ৮% নর-নারী যৌন স্বপ্ন দেখে থাকেন।কিছু কিছু ক্ষেত্রে যৌন স্বপ্নের ফলে বীর্যপাত ঘটে। সচরাচর তা ভেজা স্বপ্ন বা স্বপ্নদোষ নামে পরিচিতি হয়।

কার্যকারিতা

স্বপ্নের কার্যকারিতা নিয়ে অনেক অনুকল্পকে প্রস্তাব করা হয়েছে, এগুলোর কোনকোনটি পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতামূলক গবেষণার সাথে বিরোধী বলে প্রমাণিত হয়। এটাও প্রস্তাব করা হয়েছে যে স্বপ্নের কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নেই, এবং স্বপ্ন কেবল ঘুমের সময় মস্তিষ্কে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফলাফল।

গতিবাদী মনোরোগবিদ্যা

ফ্রয়েডের দৃষ্টিভঙ্গি

১৯ শতকের শেষের দিকে, মনোচিকিৎসক সিগমুন্ড ফ্রয়েড একটি তত্ত্ব তৈরি করেন যে, অচেতন ইচ্ছাপুরণের দ্বারা আমাদের স্বপ্নের বিষয়বস্তু তাড়িত হয়। ফ্রয়েড স্বপ্নকে "অচেতনের দিকে রাজকীয় পথ" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি তত্ত্বায়ন করেন, স্বপ্নের বিষয়বস্তুগুলো স্বপ্নদ্রষ্টার অচেতন মন এর প্রতিফলন ঘটায়, এবং বিশেষ করে স্বপ্নের বিষয়বস্তু অচেতন ইচ্ছাপুরণের দ্বারা আকৃতিপ্রাপ্ত হয়। তিনি যুক্তি দেন যে, গুরুত্বপূর্ণ অচেতন ইচ্ছাগুলো প্রায়ই প্রাথমিক শৈশবকালের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত হয়। ফ্রয়েডের তত্ত্ব স্বপ্নকে প্রকাশিত ও সুপ্ত উভয় হিসেবেই বর্ণনা করে। সুপ্ত বিষয়বস্তু গভীর অচেতন ইচ্ছা এবং কল্পনার সাথে সম্পর্কিত এবং প্রকাশিত বিষয়বস্তু উপরিউপরি ও অর্থহীন।
প্রকাশিত বিষয়বস্তু অনেক সময় সুপ্ত বিষয়বস্তুকে আড়াল বা অস্পষ্ট করে।
সিগমুন্ড ফ্রয়েড তার প্রথম দিকের কাজগুলোতে লিখেছেন, সুপ্ত স্বপ্নের বিশাল অংশ যৌনতার সাথে সম্পর্কিত, কিন্তু পরবর্তিতে তিনি তার এই অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি তার বিয়ন্ড দ্য প্লিজার প্রিন্সিপল গ্রন্থে উল্লেখ করেন, কিভাবে মানসিক আঘাত বা ট্রমা বা সহিংসতা স্বপ্নের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি তার ড্রিমস এন্ড অকাল্টিজম বক্তৃতায় স্বপ্নের অতিপ্রাকৃত উৎস্য সম্পর্কে আলোচনা করেন। বক্তৃতাটি নিউ ইন্ট্রোডাকটরি লেকচারস অন সাইকোএনালাইসিস - এ প্রকাশিত হয়।
পরবর্তী জীবনে ফ্রয়েড স্বীকার করেন যে, স্বপ্নকে "ইচ্ছা পুরণ হিসেবে শ্রেণীভূক্ত করা সম্ভব নয়"। বারবার দুঃস্বপ্নের সাথে পোস্ট ট্রমেটিক স্ট্রেস ডিজর্ডার এর সম্পর্ক আছে। আধুনিক পরীক্ষামূলক গবেষণা স্বপ্ন নিয়ে ফ্রয়েডের অনেক তত্ত্বের বিরুদ্ধে গেছে। ফ্রয়েডের "ড্রিম-ওয়ার্ক" ব্যাখ্যা-কৌশল এর কোন অভিজ্ঞতামূলক বৈধতা পাওয়া যায় নি।

ইয়ং এর দৃষ্টিভঙ্গি

কার্ল ইয়ং ফ্রয়েডের অনেক তত্ত্বই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইয়ং ফ্রয়েডের স্বপ্ন নিয়ে ধারণাটি সম্প্রসারিত করেন, এবং এটাকে স্বপ্নদ্রষ্ঠার অচেতন আকাঙ্ক্ষার সাথে সম্পর্কিত করেন। তিনি স্বপনকে স্বপ্নদ্রষ্টার কাছে আসা বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন স্বপ্নদ্রষ্টাদেরকে তাদের নিজেদের ভালর জন্যই তাদের স্বপ্নের প্রতি মনোযোগ দেয়া উচিৎ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, স্বপ্ন স্বপ্নদ্রষ্টার কাছে সেইসব সত্যকে প্রকাশ করে, যা তার ভয়ের আবেগীয় ও ধর্মীয় সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করতে পারে।
ইয়ং লেখেন যে, পৌনঃপুনিক স্বপ্নগুলো বারবার আসে বলে এটিতে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। এটি নির্দেশ করছে যে স্বপ্নদ্রষ্টা তার স্বপ্নের সাথে জড়িত সমস্যাকে অবহেলা করছেন। তিনি একে "ক্ষতিপূরণ" হিসেবে আখ্যায়িত করেন। স্বপ্ন সচেতন বিশ্বাস এবং প্রবণতাগুলোকে এগুলোর বিকল্পের সাথে ভারসাম্যে স্থাপন করেন। ইয়ং বিশ্বাস করতেন না যে, সচেতন প্রবণতাগুলো ভুল এবং স্বপ্নই সত্যকারের বিশ্বাস দান করে। তিনি বলেন, স্বপ্ন নিয়ে করা ভাল কাজের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন। তিনি বিশ্বাস করতেন, স্বপ্নের অনেক চিহ্নই প্রতিটি স্বপ্নেই ফিরে আসে। ইয়ং বিশ্বাস করতেন, কোন দিনে তৈরি হওয়া স্মৃতিরও স্বপ্নে ভূমিকা রাখে। এই স্মৃতিগুলো আমাদের উপর কিছু ছাপ রেখে যায় যাতে আমাদের অচেতন মন এগুলো নিয়ে কাজ করতে পারে যখন ইগো কাজ করে না। অচেতন মন অতীতের এই ছাপগুলোকে স্বপ্নের আকারে আবার কার্যকরী করে। ইয়ং একে দিবা অবশিষ্টাংশ (day residue) বলে উল্লেখ করেছেন।ইয়ং এও বলেছেন, স্বপ্ন পরিপূর্ণ ব্যক্তিক উদ্বিগ্নতা নয়, সব স্বপ্নই একটি "মনোবৈজ্ঞানিক নিয়ামকগুলোর একটি বৃহৎ জালিকার" অংশ।

ফ্রিৎজ পার্লস এর দৃষ্টিভঙ্গি

ফ্রিৎজ পার্লস গেস্টাল্ট থেরাপি এর পূর্ণাঙ্গ প্রকৃতির একটি অংশ হিসেবে তার স্বপ্ন নিয়ে তত্ত্ব তৈরি করেন। স্বপ্নকে এখানে আত্ম (self) এর একটি আকার হিসেবে দেখা হয় যাকে অবহেলা, প্রত্যাখ্যান করা হয় বা দাবিয়ে রাখা হয়। ইয়ং বলেন, একজন ব্যক্তি তার স্বপ্নে নিজের পরিপ্রেক্ষিত থেকে যেকোন ব্যক্তিকেই বিবেচনা করতে পারেন, যাকে স্বপ্নের বিষয়ীগত বা ব্যক্তিবাচক অভিমুখ বলা হয়। পার্লস এই মতকে সম্প্রসারিত করে বলেন, এমনকি প্রাণহীন বস্তুও স্বপ্নদ্রষ্টার দৃষ্টিভঙ্গি বা পরিপ্রেক্ষিতের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, কারণ এটিও বিষয়ীগত। স্বপ্নদ্রষ্টাকে তাই তার স্বপ্নে নিজেকে একটি বস্তু হিসেবে কল্পনা করতে এবং একে বর্ণনা করতে বলা যেতে পারে, যাতে স্বপ্নদ্রষ্টার ব্যক্তিত্বের সাথে বস্তুটির বৈশিষ্ট্য এর মধ্যকার মিথস্কিয়া সম্পর্কিত সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।
hi come my web

ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ২ )

ঘড়া একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ২ ) 
 নিচে নেমেই দোউখানু অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে।খুব ভোরে দোউখানুকে সব বুঝিয়ে দেব, তবে কাজটা করতে হবে রাঁধুনী মেয়ে এলোকেশী মতিবিবি আসার আগেই।
ছেলের আম্মুবলে ডাক শুনে দৌড়ে ওর কাছে গেলাম ।ভেবেছিলাম ও বোধহয় দোউখানুকে দেখে ফেলেছে। না, এই মাঝ রাতেও ও কাজ করছে। ফিরতি পথে আবারওআম্মু’…
-‘
তুমি কি আমাকে ডাকলে…’
-‘
না
-‘
ও সন্দেশ আম্মু।দোউখানুর উপস্থিতি অনুভব করে রাগে পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে আমার!
-‘
দোউখানু, তোমাকে কে বলল যে আমার নাম সন্দেশ, আর আমাকে আম্মুবলে ডাকছো কেন?’
-‘
আমি তো আপনার নাম জানি না, আপনি সন্দেশজাদীর মত দেখতে বলে সন্দেশ আম্মুবলেছি।
-‘
কিন্তু আম্মু কেন?’
-আমি ভেবেছি এখনকার মানুষেরা আম্মাকেআম্মুবলে । কিন্তু আমি যে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না, কোথায় বসব একটু বলে দেবেন?’ রান্নাঘরে এক কোণে একটা টুলের উপর দোউখানুকে বসতে বলে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালাম, এত বড় একটা ঘটনা,অথচ আমি কাউকে বলতে পারছি না ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুমাতে গেলাম।
ঘুমাতে পারছি না।ভয়,কখন আবার মতিবিবি চলে আসে!
ঘন্টা খানেক পর উদ্বেগ সামলাতে না পেরে আমি রান্নাঘরে উপস্থিত। কিচ্ছুক্ষণের জন্য আমি স্থবির হয়ে গিয়েছিলাম; আমার রান্নাঘরটা যেন বিদেশী হোম ইন্টেরিওর ম্যাগাজিনের কিচেন সেক্শনের ফ্রন্ট পেজ , একটু দূরে দোউখানু রুপালি রঙের একটা কড়াই হাতে চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
-‘
আমি বুঝতে পারিনি যে কালো রঙটাই এই সব বাসনের বিশেষত্বদোউখানুর সলজ্জ স্বীকারোক্তি।
-‘
ঠিক আছে। সবগুলোই কি..…!’
-
না,না,শুধু এটাই
-‘
বাসনটা আমাকে দিয়ে দাও। মতিবিবি আসার আগেই লুকিয়ে ফেলতে হবে। ঠিক আটটার দিকে সদর দরজার কলিং বেলে চাপ দিয়ে দরজা খোলার অপেক্ষায় থাকবে, আমি দরজা খুলে দেব, তারপর তুমি কাজে জয়েন করবে।
মাথা নাড়ালো দোউখানু।
-‘
আর একটা প্রশ্ন সন্দেশ আম্মা,মতিবিবিকে কি মতি আম্মুবলে ডাকব?’
-
ডেকে দেখতে পার, কিন্তু তারপরের পরিণতি সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারি না আর আমাকে সন্দেশ আম্মা বলে ডাকবে না সবার সামনে।নিজে থেকেই জেনে নিতে হবে কি বলে ডাকতে হবে।হাতে এখনও তিন ঘন্টার মত সময় আছে, আগামী পরিকল্পনাগুলো মনে মনে গুছিয়ে নেবার জন্য নিজের ঘরে ফিরে গেলাম।সকাল আটটার মধ্যে সবার প্রশ্নের উত্তর তৈরী করে রাখতে হবে । সময় মত পাকড়াশের আগমন এবং রীতিমত দাম দস্তুর করে ওকে চাকুরীতে বহাল করলাম । মতিবিবিকে ডিপার্টমেন্টাল হেড বানিয়ে পাকড়াশকে এ্যাসিস্টান্ট বানালাম, যদিও পাকড়াশ এতে একটু মনক্ষুণ্ণ হল। মতিবিবিকে খুশী রাখতেই এই কাজটা করতে হল। সহকর্মী করলেই ভালো হত কিন্তু তাহলে মতিবিবির মুখের ধার সামলানো বেশ কষ্টকর হয়ে যেত । বাড়ী সদস্যদের প্রশ্নবোধক দৃষ্টি দেখেও না.দেখার ভান করে আমার ঘরে গিয়ে ঢুকলাম, আসলে পালিয়ে এলাম ।পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছি মাত্র, দোরগোড়ায় ছল ছল চোখের মতিবিবিকে দেখে, পরিকল্পনার আশায় জলাঞ্জলি দিয়ে প্রশ্ন উত্তর পর্বের জন্য তৈরী হতে হল।
-‘
মিডাম,আমার কোমরের ব্যাথা শুনে এক রাতের মইধ্যে এত কাজ কইরে ফেইললেন! বইয়ের ছবির মত লাইগছে! মানুষের জইন্য আপনার অনেক মহব্বত!
আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলাম আমি। চোখ প্রায় জলে ভরে উঠেছে। অন্তত শশুরবাড়ীর দেশের লোক তো আমাকে ভালো বলেছে! মহব্বতশব্দটা আমার কানে ঘুরে ফিরে রিনিঝিনি সুরে বেজে চলেছে। ফোঁপাতে ফোঁপাতে মতিবিবি আবারও বলল, ‘বৃদ্ধ বয়সে এত কাজ করা ঠিক নয় মিডাম। এমনিতেই আপনার হার্ট দুর্বল তার উপর এত কাজ কইরে যদি এপার ওপার কিছু হয়ে যেত!এই প্রথম জানলাম যে আমি হার্টের রোগী।
দোউখানুর সন্দেশ আম্মুসম্মোধনটা মিঠে লাগছে এখন! আংগুলে বিপি মেশিনটা লাগিয়ে ফেলেছি। মনে মনে বললাম ,’তাহলে তো তোমার পোয়া বারো হত!
-‘মতিবিবি, তুমি আমার থেকে কত ছোট?’
-‘
ঠিক কইরে বইলতে পারব না, তবে বছর বিশেকের ছোট তো হবই দুই এক বছর বেশিও হতে পারে । আপনি শারের (স্যার) কথাটা একটুকুও ভাবলেন না! বুড়ো মানুষটাকে কে দেখা শোনা করতো তখন!বলা বাহুল্য, মতিবিবির বয়স পঞ্চাশের কোঠা পেরিয়েছে। আমার শাশুড়ীর আমলের লোক, বয়সের আন্দাজ খুব সহজেই করা যায়। তবে মতিবিবি এককালে রূপবতী ছিল এ কথা ঠিক। ওই রূপের বেশ কিছু অংশ এখনও অবশিষ্ঠ আছে।
অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করে বললাম, ‘আমার এপার ওপার কিছু হয়ে গেলে তুমি না হয় দেখা শোনা করবে।
মনে মনে ভাবছি,’মতিবিবি, বুড়ো মানুষটার ফৌজি হাতের একটা চড় খেলে কমপক্ষে একপাটি দাঁত তোমার খুলে পড়ে যাবে, এমনিতেই তোমার উপরের পাটির সামনের দুটো দাঁত নেই; আর তুমি যতই রূপবতী হও না কেন হাঁসলে তোমাকে ঠিক শাকচুন্নির মত মনে হয়। দোউখানুও তোমাকে হাঁসতে দেখলে নিঃসন্দেহে ভয় পাবে।
-‘
না মিডাম, তা কি করে হয়।মানুষে মন্দ কথা বলবে, আমি যদি আপনার মত বুড়ো হতাম তাহলে না হয় একটা কথা ছিল! ও কাজ না হয় ফজলু করবে, আমি এদিকটা সামাল দেব।
আমার মৃত্যুর পর সংসারটা ভালো ভাবেই চলবে ভেবে আমি বেশ নিশ্চিন্ত বোধ করলাম কিন্তু রহিমা, ফজলু আর আজিজ-এদেরকে কি ভাবে সামাল দেব!
চলবে ……………

Wednesday, July 10, 2019

” ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ১ )

” ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ১ )
প্রায় সপ্তাহ দুই আগে আমার আদি বাড়িতে গিয়েছিলাম। বাড়ীটা প্রায় ৩০ বছরের উপর পরিত্যাক্ত অবস্থায় আছে।একজন বৃদ্ধ কেয়ার টেকার আছেন ঠিকই,কিন্তু কিছু কিছু ঘর প্রায় একশ বছরের উপর বন্ধ অবস্থায় ছিল। বাড়িটা প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো বলে জানি। কি ধরণের মেরামত করলে বাড়িটাকে আরও কিছু বছর টিকিয়ে রাখা যায় সেটা দেখার জন্যই ওখানে গিয়েছিলাম । বন্ধ ঘরগুলো খোলার প্রয়োজন হয়েছিল সেই কারণেই।ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের ঘরটা যখন খুললাম, ঘরের এক কোণে একটা সিন্দুক পেলাম। আমার দেখা সিন্দুক্গুলো থেকে একেবারেই ভিন্ন ধরণের। সিন্দুকটা বেশ পুরোনো আর প্রয়োজনের তুলনায় অরিরিক্ত মজবুত। অবশ্য এটাও ঠিক যে সিন্দুক কতটুকু মজবুত হবে তার কোনো মাপকাঠি
বিশ্বস্ত কিছু লোক নিয়ে সিন্দুকটা ভেঙ্গে ফেললাম। দেখলাম, মাত্র একটা ঘড়া রয়েছে সিন্দুকটার ভিতর। বৃদ্ধ কেয়ার টেকার ওটাতে হাত দিতে মানা করেছিল।বলেছিল, ছোট আম্মা, ওটা যেখানে ছিল সেখানেই রেখে দিন । আপনার নানীজানের মুখে এই সিন্দুকটা সম্পর্কে খুব একটা ভালো কথা শুনি নাই। দরকার নেই এই ঘর মেরামত করার। আপনি ঘড়াটা সিন্দুকেই থাকতে দিন, আর সিন্দুকটা আবার লোহার পাত দিয়ে আটকে দেই, তারপর দরজায় আবার আগের মত তালা লাগিয়ে দেই।’
আমি শুনিনি বৃদ্ধের কথা। বলেছিলাম, ‘এত ভয় পাওয়ার কিছু নাই, আর আমি নিজেই এখন নানীজান।’
যাইহোক, বাড়ি মেরামতের জন্য লোক লাগিয়ে যথারীতি ঢাকায় ফিরে এসেছি। )
নিজের বাড়িতে ফিরে ঘড়াটা নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়লাম, সবার অগোচরে কি করে লুকিয়ে রাখব, কোথায় রাখব ভেবে পাচ্ছিলাম না; অবশেষে চিলেকোঠাটাকেই বেশ নিরাপদ মনে হল। চিলেকোঠার চাবি আমার কাছেই থাকে, সুতরাং ভয়ের কিছু নেই।
ঘড়াটাতে কি আছে দেখার জন্য মনটা ছটফট করছিল, অবশেষে গত বুধবার রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, আমি ঘড়ার শীল গালা ভেঙ্গে ফেললাম আর তখন থেকেই ঘটনার শুরু।
ঢাকনাটা খুলতেই কালচে নীল একটা ধোঁয়া কুণ্ডুলী পাকিয়ে উপরে দিকে উঠতে শুরু করেছে। অসম্ভব ভয় লাগছে আমার। বাড়ির বাকি সদস্যদের সঙ্গী করার উপায় নেই! ঘড়াটা যদি সোলেমানী ঘড়া হয় তাহলে আমি সবার জন্য বিরাট বিপদ ডেকে এনেছি! নাহ! তা কি করে হয়! ঘড়াটার বয়স যত দূর বুঝতে পারছি, দুইশত বছরের বেশি হবে না।
নিজের চিন্তায় মশগুল ছিলাম । অন্য কারো উপস্থিতি অনুভব করতেই চমকে ঘুরে তাকালাম। এ বাবা! এটা আবার কে? বছর তিরিশেকের বেশি হবে না লোকটার বয়স।গিলে করা ফিনফিনে পান্জাবী, চুড়িদার আর পায়ে নাগড়াই। মাথাভর্তি একঝাকড়া চুল আর মুখে চাপ কালো দাড়ি। চিলেকোঠায় তো অন্য কারো থাকার কথা নয়,দরজার চাবি তো আমার কাছেই থাকে! ভয়ে বেশ দিশেহারা হয়ে পড়েছি! হাতের কাছে একটা পাইপ পেয়ে ওটা হাতে নিয়েই মরিয়া হয়ে মারমুখী হয়ে দাঁড়িয়েছি! ‘আসসালামু আলাইকুম, শাহজাদী বিলকিস বেগম! আপনি এরকম পোশাক পরে আছেন কেন? এরকম বেআব্রু হয়ে আপনি যত্র তত্র ঘুরে বেরাচ্ছেন এটা ঠিক নয় । আপনি আপনার ভ্রমর কালো চুলের একি দশা করেছেন!’
ততক্ষণে আমার রাগ ব্রম্ক্ষতালু ছুঁয়েছে। বললাম, ‘সংযত হয়ে কথা বলুন, আমি বিলকিস বেগম নই।’
-‘তাহলে আপনি কে?’
-আমি কে তা আপনার না জানলেও চলবে , এই চিলেকোঠায় আপনি কিভাবে এলেন?’
লোকটাকে বেশ হতচকিত দেখাচ্ছে।
-‘আমি ওই ঘড়াটার মধ্যে বন্দী ছিলাম,আপনি ঘড়ার মুখটা খুলে দিলেন আর আমি বের হয়ে পড়লাম।’
ততক্ষণে বুঝে গিয়েছি কি ভুলই না করেছি আমি।নিজে হাতে ‘জ্বীন্ִ’ ডেকে এনেছি। মনে মনে নিজেকে সাহস যোগাচ্ছি-সামাল দিতে হবে।
প্রশ্ন করলাম, ‘কে আপনাকে বন্দী করেছিল?’
-‘সন্দেশজাদী’
মনে পড়ল সন্দেশজাদী আমার পূর্বসুরীদের একজন ছিলেন, আর শাহজাদী বিলকিস বেগম তাঁর কনিষ্ঠা কন্যার নাম।
জ্বীন তাড়ানোর উপায় আমার জানা নেই কিন্তু একে তো তাড়াতে হবে। আল্লাহ ভরসা, কোনো না কোনো একটা উপায় বের হয়ে আসবেই। আপাতত কথা চালিয়ে যাই ওর সাথে। ভুলিয়ে ভালিয়ে যদি বিদায় করা যায়…
-‘আপনার চেহারার সাথে সন্দেশজাদীর চেহারার মিল খুঁজে পাচ্ছি । আপনি সন্দেশজাদী নন তো?’
বেশ ভীত শোনালো লোকটার গলা।
‘না আমি সন্দেশজাদী নই। আমি ওনার বংশধর। উনি প্রায় একশ আশি বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন।’
হতভম্ব দেখালো লোকটাকে।
আবারও প্রশ্ন করলাম,’ কে বন্দী করেছিল আপনাকে?’
-‘সন্দেশজাদী। শাহজাদী বিলকিস বেগম কোথায়? আর আমি কত বছর বন্দী ছিলাম?’
শাহজাদী অনেক আগেই মারা গিয়েছেন।’ .
ধেড়ে লোকটার ভেউ ভেউ কান্না শুরু হাওয়ায় অন্য প্রশ্নের সুযোগই পেলাম না। জ্বীনের চোখে জল; দেখার মত বিষয়! কান্নার প্রকোপ একটু থামতেই আবার প্রশ্ন করতে শুরু করলাম।
-‘কেন বন্দী করা হয়েছিল আপনাকে?’
-‘বিলকিস বেগমের প্রতি আসক্ত হয়েছিলাম তাই! আমার ‘হতে পারত শাশুড়ী আম্মা’ বেশ রাগী ছিলেন।’
-‘খুলে বলুন।’
– ‘আমি পেশায় বাবুর্চি। কোহেকাফের প্রধান মন্ত্রির বাবুর্চি ছিলাম। একদিন রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য লতা গুল্মর খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, হঠাৎ সন্দেশজাদীর বাগানের দিকে নজর পড়ে। বাগানে শাহজাদী বিলকিস বেগমকেও দেখি। আহা কি রূপ! যেন ঝিনুক খোলায় রামধনু রঙা মুক্তা… ভ্রমর কালো…’
-‘রূপের বর্ণণা এখন থাক। আসল কথায় চলে আসুন।’
সন্দেশজাদীর মত দেখতে হওয়ার কারণে লোকটা মনে হয় আমাকে একটু ভয় পাচ্ছে; আর আমি তো প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে কথা বলে চলেছি।
বলেই ফেলল, ‘আপনি আমাকে তুমি করেই বলেন, আপনি আমার মাতৃতুল্য।’
‘আপনার মাতৃতুল্য হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই, তবে আমি আপনাকে তুমি করেই বলব । এখন বল, তুমি শাহজাদী বিলকিসের সাথে কি করেছিলে? তোমার নামটা এখনও জানতে পারিনি।’
-‘আমার নাম ‘দোউখানু নিয়ামি পাকড়াশ’। বিলকিস বেগমের রূপে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই, আহা কি তার রূপ, কি তার গুন । আমি শুধু তার পাশে পাশে থাকতে চাইতাম। কোহেকাফে না ফিরে ওই বাড়িতেই রয়ে গেলাম । ছয় মাস চেষ্টার পর বিলকিস বেগমও আমার প্রতি আকৃষ্ট হন, আর এই ঘটনাতে আমার ‘হতে পারত শাশুড়ী আম্মা” রেগে গিয়ে আমাকে ঘড়া বন্দী করেন।’
বিলকিস বেগমকে নিয়ে বেশ গর্বিত বোধ করছি, বিলকিস বেগমের সাহসিকতায় আমি মুগ্ধ।মানুষ হয়ে জ্বীনের প্রেমাসক্ত! দোউখানু প্রতিও বেশ টান অনুভব করছি। হাজার হোক আমার পূর্ব পুরুষের প্রেমিক।
বললাম, ‘তুমি তো এখন মুক্ত, কোহেকাফে ফিরে যাও।’
বিব্রত দেখাচ্ছে দোউখানুকে।
-‘সন্দেশজাদী আম্মা, আমার যে কোহেকাফে ফিরে যাওয়ার উপায় নেই! কোহেকাফে বেকার লোকদের কোনো জায়্গা নেই।তার উপর আমার প্রাক্তন প্রেমিকা ওখানে আছে। কে জানে আমাকে ঝাটা পেটা করবে কিনা! বেকারদের কোহেকাফ থেকে বের করে দেওয়া হয়, তখন ওর আপনাদের আশে পাশে এসে আস্তানা গাড়ে আর আপনাদেরকে ভয় দেখায়।বিশ্বাস করুন আমরা জ্বীনেরা সবাই খারাপ নই! ‘
খুবই ম্রিয়মান দেখালো দোউখানুকে। সন্দেশজাদী আম্মা বলে ডাকার জন্য ওর উপর রাগ করতেও ভুলে গেলাম।
-‘ও সন্দেশ আম্মা, আপনি আমাকে কয়েকদিন আপনার বাড়িতে থাকতে দেন, আমি খুব ভালো রাঁধতে পারি, আপনার রান্না আমি করে দেব। এর মধ্যে আমি কোহেকাফের সাথে কথা বলে একটা চাকুরীর ব্যবস্থা করে ফেলবো আর আমার প্রাক্তন প্রেমিকাকেও বুঝিয়ে বলব।’
কি বলবে প্রাক্তনকে? ‘
-‘বলব, জ্বীন মাত্রই ভুল করে।’
মন্দ বলেনি পাকড়াশ! আজ কালের মধ্যে বাড়ীতে একটা বড় নৈশভোজের আয়োজন করতে হবে।বেশ চিন্তায় আছি আমি।মনে মনে বললাম,’বেটা বাবুর্চি! বিলকিস বেগমের সাথে প্রেম করতে গিয়েছিলি! বামুন হয়ে চাঁদে হাত! তোকে আমি বাবুর্চীর কাজই করাব!’
-‘ঠিক আছে তুমি বাবুর্চী পদে বহাল হলে, তবে মাত্র সাত দিনের জন্য। এই সাত দিনের মধ্যে দু’টো ছোট খাটো বিয়ে বাড়ি সমান নৈশভোজের আয়োজন সামাল দিতে হবে। আজ তুমি এই চিলেকোঠায় রয়ে যাও, কাল তোমার জয়েনিং। ওহো! তোমাকে আমি পাকু মিয়া বলে ডাকব।’ খুব ভোরে নিচে আমার রান্নাঘরে এসো, আমি বুঝিয়ে বলব কিভাবে কাজ করতে হবে।
দোউখানু চিঁ চিঁ গলায় বলে উঠল,-‘ও সন্দেশ মা,দয়া করুন , এই চিলেকোঠায় আমি একা থাকতে পারব না!’
অগত্যা দোউখানুকে সাথে নিয়েই নিচে নামতে হলো!
চলবে ……………সবগুলো পর্ব এখানে পাওয়া যাবে

শ্মশানের ভূত

  দ্বিতীয় পর্ব     জ্ঞান ফিরল পরদিন সকাল নটায়। ততক্ষণে ঠাকুরমশাই বাড়ির পুজো করে ফেলেছেন।       বাড়ির সবাই আমাকে চা...