Search This Blog

Tuesday, August 6, 2019

ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৫ )

"ঘড়া একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৫ ) 


ফৌজির অন্য মহিলার রূপের প্রশংসায়, বুকের ভিতর তীক্ষ্ণ একটা অনুভূতি হল, তবে টাকার চিন্তায় অভিমানকে দূরে সরিয়ে রাখলাম।
আলমারি দুই তিন বার ঘাটা ঘাটি করে সর্ব সাকুল্যে মাত্র তিন লক্ষ জোগাড় করতে পেরেছি । নাহ, ফৌজির কাছে চাইতেই হবে মনে হচ্ছে । গোল গোল চোখ গুলোকে বাঘের মত আরও গোল করে তাকিয়ে থাকবে প্রথমে, তারপর দিয়ে দেবে। আমি না হয় আমার বাবার বাড়ি থেকে শাহজাদী বিলকিস বেগমের পেইন্টিংটা এনে ডাইনিংহলে ঝুলিয়ে দেব। ফৌজি আর দোউখানুর চক্ষু তুষ্টিও হবে আর আমার টাকার জোগাড়। সাময়িক ভাবে সমস্যার সমাধান হলেও, একটু ভয় ভয় লাগছে আমার । যদি না দেয়!
ছেলের ঘর থেকে কথা বার্তার আওয়াজ ভেসে আসছে । দরজাটা খুলে একটু গলা বাড়িয়ে দিলাম। আমারই তো ছেলে! পেতিয়ে বসে দোউখানুর সাথে গল্প করছে ।
-‘Mom,Doukhanu is very smart!’
-‘কেমন স্মার্ট? ‘
-‘আমি ওকে ইন্টার্নেট চালাতে শিখিয়ে ফেলেছি । একটা ফেসবুক এ্যাকাউন্টও খুলে দিয়েছি, ও তোমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছে । তারপর আমার এ্যাকাউন্ট থেকে তোমার ফ্রেন্ড লিস্টে গিয়েছে । জেসিনা ফারহান, ফারিয়া শামিমকে খুব পছন্দ হয়েছে, ওনাদের চুল নাকি খুব সুন্দর । আমি অবশ্য ওনাদের ভালো করে দেখিনি ।
চোখগুলোর সামনে হাত দুটো পেতে রেখেছি ।
-‘কেন দেখনি? ‘
-‘মম, তোমার বন্ধু, ওরা আমার মাতৃতুল্য । ফিক করে হেসে ফেলল ।
নাহ, চোখ গুলোকে আর বোধ হয় ধরে রাখতে পারব না। কোটর ছেড়ে টুপ টুপ করে বেরিয়ে পড়ে যদি মাটিতে পড়ে যায় তাহলেই গেল সব!
এদিকে দোউখানু যেন কিছু বলার জন্য আকু পাকু করছে ।
চোখ দুটোর জলান্জলি যাতে না হয় , তার জন্য চোখের সামনে হাত দুটো শক্ত করে পেতে রেখেই দোউখানুকে প্রশ্ন করলাম, ‘ কিছু বলবে দোউখানু? ‘
– ‘ মম আম্মা, আমি জেসিনা ফারহানের বাসায় গিয়ে ওনাকে আড়াল থেকে দেখে এসেছি । আহা! কি তার চুলের রূপ! আড়াল থেকে দেখলাম, উনি ফ্রিজ খুঁজে বেড়াচ্ছেন ইন্টার্নেটে । তারপর আমি গেলাম ফারিয়া. এস.শামিমের বাসায় । ওনার মনে হয় অনেক জ্বর, চুল গুলো উঁচু করে বাঁধা; জ্বরে উনি রক্ত চক্ষু মা চণ্ডীর রূপ ধরে বসে রয়েছেন । তাও খুব সুন্দর! জ্বর বেশী কিনা জানার জন্য ভুলে ওনার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছি মাত্র, অমনি মার মুখী হয়ে এমন কড়া কথা বললেন আমি দৌঁড়ে পালিয়ে এসেছি!
– ‘ বল,গালি দিয়েছেন।তা কি বললেন?’
-‘না,না , আমি ওসব বলতে পারব না মম ম্যাডাম।
ফারজানা রহমানকে দেখে আসলাম, বড়ই নেক রমনী! কণ্ঠস্বর প্রায় শোনাই যায় না রেশমী সাবেরের কাছেও গিয়েছিলাম, একটু সময় লেগেছে এই যা । সারা দিন ওনাকে অনেক কাজ করতে হয়! গৃহিনী হিসেবে উনি অতুলনীয়! ভেবেছিলাম একটু সাহায্য করে আসব, কিন্তু আগামিকাল তো আবার বিশ্ব ভ্রমণে বের হব, তাই চলে এলাম!
যাক! তাহলে, এই কয়েকজনকেই রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছে। নিশ্চিন্ত হলাম।
-‘ব্যাস,এই কয়েক জন তো? নাকি.…’
-‘না মম আম্মু, আবিদ ভাই আরও কয়েকজনকে সাজেস্ট করেছেন, ওনার পছন্দ অনুযায়ী!
‘ -‘মম , তোমার এত ছোট ছোট বন্ধু, চোখ ফেরাতে একটু কষ্ট হয় । তারপরও বেশি তাকাইনি। সবই তোমার শিক্ষার গুণ!
বলা বাহুল্য আমার পুত্র সন্তান আবিদের বয়স খুব বেশি না, মাত্র চব্বিশ।
-‘ হ্যাঁ বাবা, আমার শিক্ষার গুণ, আর তুমি তোমার বাবার জেরক্স, বার্থ সার্টিফিকেট লাগবে না!
আবিদের ঘর থেকে বেরিয়ে, সোজা শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে আছি এখন আমি! আধা ঘন্টা পর বের হব ভাবছি ।

শ্মশানের ভূত

  দ্বিতীয় পর্ব     জ্ঞান ফিরল পরদিন সকাল নটায়। ততক্ষণে ঠাকুরমশাই বাড়ির পুজো করে ফেলেছেন।       বাড়ির সবাই আমাকে চা...